প্রশ্নফাঁসে স্থগিত যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা, নতুন তারিখ ঘোষণা

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ঢাকা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে গতকাল শনিবার বেলা ৩টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার মন্ত্রণলায়ের উপসচিব মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদন তিন কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। তদন্ত কমিটিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন-মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (ফিন্যান্স অ্যান্ড পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক (সিড ফাইন্যান্সিং)। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন অধিশাখা) কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় অধিদফতরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জানা যায়, ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। এদিকে প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন চাকরি প্রার্থীরা। মতিঝিল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ে যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা মাহিন ইসলাম নামের এক চাকরি প্রার্থী জানান, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেন। ওএমআর শিটও দেওয়া হয়। তবে ঠিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জানানো হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন ফাঁস এ দেশের একটা ব্যাধি। আমি নোয়াখালী থেকে কাল রাতে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশে ঢাকায় এসেছি। এত দূর থেকে পরীক্ষা দিতে এসে যখন জানতে পারলাম প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে, তখন খুব দুঃখ পেলাম। কবে নাগাদ এই প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হবে আর আমাদের মতো তরুণরা বেকার থেকে চাকরিজীবী হবে সে আশায় দিন গুনছি। পরীক্ষার্থীরা জানান, নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় এসেছিলেন তারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই তা বাতিল হওয়ায় ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেন।




