আন্তর্জাতিক

পাকিস্তান পর্যটকের আড়ালে সমুদ্রে চলছে ‘জঙ্গি’ প্রশিক্ষণ

পাকিস্তানের করাচির কাছে একটি দ্বীপে পর্যটকের ছদ্মবেশে সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সদস্যরা। স্কুবা ডাইভিং, যুদ্ধকালীন সাঁতার এবং পানির নিচে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার কৌশল শেখানো হচ্ছে তাদের। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, করাচি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে চারনা দ্বীপে এ প্রশিক্ষণ চলছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ডাইভিংয়ের বিভিন্ন স্থান থাকায় দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণরত জঙ্গিদের পর্যটক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লস্করের এই সামুদ্রিক শাখাকে ‘দাওয়াহ মেরিন উইং’ অথবা ‘সাদা-ই-হুররিয়ত’ নামে চিহ্নিত করেছে। প্রশিক্ষকদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন মার্কাজি মুসলিম লীগের (পিএমএমএল) সদস্যরা। সংগঠনটিকে লস্করেরই একটি ছদ্মবেশী সহযোগী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগেও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) মংলা বাঁধ এবং জঙ্গি সংগঠনটির বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তৈরি সুইমিংপুলে লস্করের সদস্যদের সামুদ্রিক অভিযানের প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য পেয়েছিল গোয়েন্দারা। ভারতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর কয়েকটি সামরিক অভিযানে এসব প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কিছু স্থাপনা নির্ভুল বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করা হয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য, ২০০৮ সাল থেকেই লস্করের একটি ছোট সামুদ্রিক ইউনিট রয়েছে। তবে এখন সমুদ্রপথে বড় পরিসরে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সংগঠনটি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো লস্করের সদস্যরাও সমুদ্রপথে শহরটিতে প্রবেশ করেছিল। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমুদ্রপথে যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় কাজ করছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’ পাকিস্তানের মুরিদকে এলাকায় লস্করের সদর দপ্তরসহ নয়টি বড় জঙ্গি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণরেখার (এলওসি) কাছের কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করা ও জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে লস্করের একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মীরের ছয়টি স্থানে অভিযান চালিয়েছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (সিআইকে)। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার বুদগাম, শ্রীনগর, বিজবেহারা ও অনন্তনাগের মাত্তান এবং পুলওয়ামার একটি গ্রামে এসব অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে সন্দেহজনক নথিপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!