খেলাধুলা

তীরে এসে তরী ডুবিয়ে সিরিজ হাতছাড়া করলো টাইগাররা

শেষের ছক্কাটি হলে বাংলাদেশের পরাজয়ের ব্যবধান হতো ১ রানের। কিন্তু একেবারেবাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়লেন তাওহিদ হৃদয়। শেষ তিন বলে দরকার ছিল ১৮ রান। ৩টি ছক্কার প্রয়োজন। ২০তম ওভারের ৪র্থ বলে ছক্কা হাঁকালেন, ৫ম বলে মারলেন বাউন্ডারি। তখনই পরাজয় নিশ্চিত। তবুও, শেষ বলে ছক্কার মারতে চেয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু লংঅনে ক্যাচ আউট। ফলে, একেবারে তীরে এসে তরি ডুবেছে বলা যায় বাংলাদেশের। ১৯৭ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১৮৯ রান। হেরেছে ৭ রানের ব্যবধানে। এই হারে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ খুইয়েছে স্বাগতিকরা। চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৯ রান করেন রেনশো। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৯ রান করে বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। দুই প্রান্ত থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। দারুণ শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি তামিম। ম্যাট রেনশোকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৫ বলে ৩০ রান করেন এই ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। তিনে নেমে দ্রুতই ফেরেন সৌম্য সরকার। এই টপ অর্ডার ব্যাটার ৯ বলে করেন ১৫ রান। তবে পারভেজ হোসেন ইমনকে সঙ্গে নিয়ে আবারো দারুণ জুটি গড়েন সাইফ। ২২ বলে ৩৬ রান করে ইমন ফিরলে পথ হারায় বাংলাদেশ। পরের ওভারেই ফেরেন ৪২ রান করা সাইফও। লোয়ার মিডল অর্ডারে পুরোপুরি ব্যর্থ শামিম হোসাইন-আব্দুক গাফফার সাকলাইনরা। তাতে আর সমীকরণ মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় চেষ্টা করেছেন। তবে তার ৩৫ রানের ইনিংস কেবলই হারের ব্যবধান কমিয়েছে। এর আগে গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও আক্রমণাত্মক শুরু করতে চেয়েছিলেন জশ ইংলিস। তবে এবার তাকে বেশিদূর এগোতে দেননি নাসুম আহমেদ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে এই ওপেনারকে ফিরিয়েছেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে ৬ বলে ১১ রান করেছেন ইংলিস। পরের ওভারেই দলকে ব্রেকথ্রু দেন নাহিদ রানা। টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ৩৯৬ দিন পর মাঠে নেমেই উইকেটের দেখা পান এই প্রিমিয়াম পেসার। ১ রান করা কপার কলোনি স্লিপে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফিরেছেন। পরপর দুই ওভারে উইকেট হারানোয় দেখে-শুনে খেলছিলেন মিচেল মার্শ। তবে ১৯ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন রেনশো ও ডেভিড। দুজনের ৯৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় অজিরা। ৪৫ রান করা ডেভিডকে ফিরিয়ে জমে ওঠা এই জুটি ভেঙেছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তবে রেনশো অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করে এসেছেন। তাতে বড় সংগ্রহই পেয়েছে অজিরা। বাংলাদেশের হয়ে ২৭ রানে ২ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার নাসুম। এ ছাড়া একটি করে উইকেট পেয়েছেন রানা, সাকলাইন ও মুস্তাফিজ।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!