প্রধান খবররাজনীতি

ঢাকা উত্তরে এনসিপির প্রার্থী আসিফ, দক্ষিণে পাটওয়ারী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। গতকাল রোববার বিকালে বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সমন্বয় সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন বলে সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দুই মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলরদের নিয়ে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা, জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং আওয়ামী লীগের ‘নাশকতামূলক তৎপরতার’ প্রতি কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেন। ঘোষিত দুই মেয়র পদপ্রার্থী এনসিপির মুখপাত্র আসিফ ও মুখ্য সমন্বয়ক পাটওয়ারীও সভায় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সংসদ নির্বাচনের পর গত মার্চে পাঁচ সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। ওই সময় আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণে এবং আরিফুল ইসলাম আদীবকে উত্তরের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ডিএনসিসিতে মেয়রপদে আসিফ মাহমুদ আর ডিএসসিসিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যে এনসিপির চূড়ান্ত প্রার্থী হতে যাচ্ছেন তার আঁচ পাওয়া গিয়েছিল তাদের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এনসিপির মিডিয়া কমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে আসিফ ঢাকা উত্তর সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নাসীরুদ্দীন গেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে। সবশেষ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারেননি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; কারণ সেই সময় তিনি ওই এলাকার ভোটার ছিলেন না। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ সংসদ নির্বাচনের আগেই কুমিল্লা থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হয়েছিলেন; তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি। সংসদ নির্বাচনে যেকোনো আসনে ভোটার হলেই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে তাকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার হতে হয়। স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২ সেপ্টেম্বর ভোটার স্থানান্তরে ৫ দিন সময় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চাইলে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। এসব আবেদন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করেছেন নির্বাচন কমিশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!