আন্তর্জাতিক

চলতি সপ্তাহে ভ্যাটিকান ও রোম সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের মার্কো রুবিও এই সপ্তাহে রোম ও ভ্যাটিকান সফর করবেন বলে জানা গেছে। ইতালী সরকারের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পোপ লিও’র মধ্যে সাম্প্রতিক বিরোধের কয়েক সপ্তাহ পরই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী রুবিও ভ্যাটিকানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিয়েত্রো পারোলিন ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানির সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইতালীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের এই সফরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তোর সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ক্যাথলিক নেতা পোপ চতুর্দশ লিও’র যুদ্ধবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চরম সমালোচনার কয়েক সপ্তাহ পরেই এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পোপের পক্ষ সমর্থন করায়, ট্রাম্প ‘সাহসের অভাব রয়েছে’— বলে তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরও সমালোচনা করেন। ইতালীর গণমাধ্যম রোববার রুবিওর সফরকে সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বৈঠক হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৫ সালের ৮ মে পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর বিশ্বের ১৪০ কোটি ক্যাথলিকের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পোপ লিও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে আসছেন। তবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল আক্রমণের পর, তার ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবিরোধী অবস্থানই ট্রাম্পের ক্ষোভের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এপ্রিলের ১১ দিনের লড়াই শেষে জাপানের একটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে জাপানের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ১১ দিনের প্রচেষ্টার পর ভয়াবহ দাবানলটি নিয়ন্ত্রণে আসে। দাবানলটি গত ৩০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম বলে জানা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এপ্রিলের শেষ দিক থেকে কয়েক শত দমকলকর্মী ও সহস্রাধিক সামরিক সদস্য আগুন নেভাতে কাজ করেন। দাবানলটি পার্বত্য ইওয়াতে অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কের প্রায় পাঁচ গুণ। ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে অন্তত আটটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও দুই জন সামান্য আহত হয়েছেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওৎসুচি শহরের মেয়র কোজো হিরানো শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর, তাকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, আকাশপথ ও স্থলপথে আগুন নেভানোর প্রচেষ্টা ও ভারী বৃষ্টিপাত— সব মিলিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে হিরানো সতর্ক করে বলেন, কোথাও কোথাও ধিকিধিকি আগুন জ্বলতে থাকার আশঙ্কা থাকায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক থাকবে। কিয়োদো নিউজ এ ঘটনাকে গত ৩০ বছরের মধ্যে জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবানল হিসেবে উল্লেখ করেছে। শীতকাল ক্রমেই শুষ্ক হয়ে ওঠায় দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। গত বছর ইওয়াতে আরেকটি দাবানলে ২ হাজার ৬০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। ১৯৭৫ সালের পর এটিই ছিল জাপানের সবচেয়ে বড় দাবানল। ওই বছর হোক্কাইডোর কুশিরো এলাকায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন খরা আরও তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী করবে। আর এতে দাবানলের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!