অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না টুপটুপ রিসোর্টের, তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে, চেহারা দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এদিকে, প্রাথমিকভাবে ১১ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও ১০টি মরদেহ উদ্ধারের পর সর্বশেষ হিসাবে আরও একজনের খোঁজ চলছে। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাণহানির ঘটনায় মালিক তানভীর আহমদ, ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরে থাকা কয়েকজন অতিথি আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রিসোর্টের রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় চা বসানো হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর সেখানে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে গ্যাসের চুলা বা সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএনএ পরীক্ষায় মিলবে মরদেহের পরিচয়
আগুনে নিহতদের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় স্বজনদের পক্ষেও চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুবক্তাগীন মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি নিহতদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। দুই পক্ষের নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ধারণা, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং ফলাফল মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকার মালিবাগে সিআইডির দপ্তরে গিয়ে নমুনা দেওয়া শুরু করেছেন। গতকাল রোববার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রী এলাকার ইসরাত জাহান মালিহা ও লায়লা জাহান নাবিলার চাচা আবু তালেব জানান, গতকাল রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা মালিবাগে সিআইডির দপ্তরে নমুনা দিতে যান। কক্সবাজারে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজও চলছে।
প্রাথমিক তালিকায় ১১ জন, সর্বশেষ হিসাবে খোঁজ চলছে একজনের
অগ্নিকাণ্ডের পর স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১১ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানা যায়। তবে ১০টি মরদেহ উদ্ধারের পর ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, হিসাব অনুযায়ী আরও একজনের খোঁজ চলছে। প্রাথমিক তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তাঁদের সবাইকে এখনো নিখোঁজ বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার হওয়া মরদেহের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে। প্রাথমিক তালিকায় ছিলেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩) ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ। তালিকায় আরও ছিলেন সাভারের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) এবং যশোরের নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) ও তাঁদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) এবং সুনাইনা ইহানা (৩)। তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে কয়েকজনের নাম ও পরিচয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রাথমিক তালিকার নামগুলো সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের মাধ্যমে মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকার আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, তাঁর শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভী ও ফারিয়া কবির। পরিবারের সদস্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিস তেহামি জেরিফ এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদের নামও নিহতদের তালিকায় এসেছে। তবে মরদেহের সঙ্গে প্রত্যেকের পরিচয় মেলানোর বিষয়টি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটি বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। গত শনিবার তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ফেরার প্রস্তুতিও চলছিল। এর আগেই রিসোর্টে আগুনের ঘটনা ঘটে। এদিকে যশোরের মনিরামপুরের নাহিদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি ও দুই শিশুসন্তানের খোঁজ না পাওয়ায় স্বজনেরা উদ্বিগ্ন। নাহিদুর ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ায় থাকতেন। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাই ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং দিয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়ে নাহিদুর তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। গত শনিবার আগুনের খবর পাওয়ার পর ফোন করেও ভাই বা তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি জাহিদুর। পরে তিনি নিজেই কক্সবাজারে যান। জাহিদুর জানান, তাঁরা দুই ভাই। তাঁদের মা মারা গেছেন। অসুস্থ বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। নাহিদুরের নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁকে এখনো জানানো হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জীবিত আছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পেরে স্বজনেরা উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদুর নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের বিষয়ে তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান যাচাই করছেন। প্রয়োজনে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্তের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানিয়েছেন, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর স্থাপনাটিকে অনিরাপদ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনতলা কাঠের ভবনটির নিচতলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এমন ভবন পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন জানান, রিসোর্টটির বৈধ অনুমোদন ছিল না। নোটিশ দেওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম বন্ধ না করে ব্যবসা চালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল, যিনি ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জবাবদিহি দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে রেস্তোরাঁ হিসেবে চালু হয়েছিল। পরে ওপরের অংশে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক করলেও মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। নিহত আরেক ব্যক্তির স্বজন নঈমুদ্দিন পরিবারের চার সদস্য, তাঁর বড় ভাই, ভাবি ও দুই শিশুসন্তানকে হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভবনে পর্যাপ্ত বহির্গমন পথ ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব হতে পারত।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় আগুনের মুহূর্ত
রিসোর্টটির কাছের একটি বাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সকালে বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে এসে তিনি রিসোর্টটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় চার থেকে পাঁচজন কর্মী মালিকের পোষা কুকুর ও বিড়াল নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসছিলেন। রিসোর্টের দ্বিতীয় তলায় মালিকের দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল রাখা ছিল বলে জানা গেছে। কুকুর দুটির নাম কেনি ও কিয়ানা। একটি ইতালীয় এবং অন্যটি জার্মান প্রজাতির বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সেখানে পার্সিয়ানসহ বিদেশি প্রজাতির কয়েকটি বিড়ালও ছিল। মালিক এসব প্রাণী পোষার পাশাপাশি কেনাবেচা করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ১৯ জন কর্মী দায়িত্বে ছিলেন। ভবনটির নয়টি কক্ষের মধ্যে ছয়টিতে অতিথিরা অবস্থান করছিলেন। কয়েকজন কর্মী ও অতিথি দ্রুত বের হতে পারলেও অন্যরা আটকা পড়েন। বিভিন্ন সূত্রে অতিথির সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে, তাই ঘটনার সময় ঠিক কতজন ভেতরে ছিলেন, তা যাচাইয়ের বিষয়। জমি কিনে রিসোর্ট, মালিক ও অংশীদারকে খুঁজছে পুলিশ
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুনে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা টিপু সুলতান মিয়ার ছেলে তানভীর সুলতান মিয়া ইনানী মৌজায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন প্রায় ১০ শতক জমি কেনেন। জমিটি গিয়াস উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকায় কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে রিসোর্টটি গড়ে তোলা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়। রিসোর্ট ব্যবসার পাশাপাশি তানভীরের সার্ফনেট নামে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে মালিক তানভীর আহমদ ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাঁদের খুঁজছে।
মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় উখিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ, ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোরশেদ ও ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে চতুর্থ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া ১৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলায় আসামি ২৩ জন। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, মামলাটি দায়েরের পর ব্যবস্থাপক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। অবহেলা ও যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।
তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গতকাল রোববার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনেন এবং বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধি রয়েছেন। তদন্তে ভবন নির্মাণের অনুমোদন, রিসোর্ট পরিচালনার বৈধতা, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং আগুনের সূত্রপাতের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান বলেন, পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনাগুলোর অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, আবার কেউ কেউ নবায়নের নিয়মও মানেন না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দ্রুত স্থাপনা গড়ে তোলার ঘটনাও রয়েছে। জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্ষেত্রে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হলেও জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে রিসোর্টগুলো যাচাই করে অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজিদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে। ১০ জনের মৃত্যু, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের অপেক্ষা এবং আরও একজনের খোঁজ চলার মধ্যে এখন তদন্তের ফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নিহতদের স্বজনেরা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হলে মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি রিসোর্টটির নিরাপত্তা ও অনুমোদনসংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতাও তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার কথা।




