প্রধান খবরসারাদেশ

রুবেলের জবানবন্দি- নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদিকে হত্যা: জুলকারনাইন

ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে ফয়সাল করিম মাসুদ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করে বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান। জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টের লিংকে ১৬৪ ধারায় দেওয়া রুবেলের জবানবন্দি, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি ও লিংক কমেন্টে দেন। জুলকারনাইন সায়ের খান তার ফেসবুকে লেখেন, রুবেল আহমেদের কথা আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়? ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িচালক রাজ্জাক মাতব্বরের ছেলে মো. রুবেল আহমেদ। গত বছরের ১৫ জানুয়ারি বহুল আলোচিত কলকাতার পার্ক হোটেলের একটি সভায় এই রুবেল ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর আত্মগোপনে থেকে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির তৎপরতায় সংশ্লিষ্টতার কারণে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজানের সার্বিক নির্দেশনায় এডিসি ও এসি মোহাম্মদপুর জোন এবং ওসি মোহাম্মদপুর থানা কর্তৃক পরিচালিত এক অভিযানে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ গভীর রাতে বছিলা মেট্রো হাউজিং এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারের পর ৩০ এপ্রিল ২০২৫ রুবেল আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়ে বের হয়। ঘটনা ইন্টারেস্টিং মোড় নেয় ২১ জানুয়ারি ২০২৬। এদিন মধ্যরাতে জামিনে থাকা রুবেল আহমেদকে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারণ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুল ওরফে শুটার ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এই রুবেল আহমেদকে চিহ্নিত করা হয় এবং ওসমান হাদি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। এর একদিন পর ২২ জানুয়ারি ২০২৬ আদালতে রুবেলকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঁঞা। তবে আদালত ৬ দিন রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের খাস কামরায় রুবেল আহমেদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন, যা এই পোস্টে সংযুক্ত করা হয়েছে। জবানবন্দিতে রুবেল আহমেদ উল্লেখ করেন, ছাত্র নেতা ওসমান হাদি এবং ইউটিউবার কাফিকে হত্যার নির্দেশ দেয় ভারতে পলাতক জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লব। এবং সে লক্ষ্যে ৩ নভেম্বর ২০২৫, রুবেলের উপস্থিতিতে হত্যা মামলার অপর আসামি কামরুজ্জামান রুবেলকে ফোন করেন বিপ্লব। রুবেল জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, যে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্যের কারণে এই দুই ব্যক্তিকে ২০/২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সরিয়ে দিতে (হত্যা) নির্দেশ দেওয়া হয়। জবানবন্দিতে রুবেল লিখেছেন- কামরুজ্জামান রুবেল ফয়সালের কাছে কিছু টাকা পান, কিন্তু সে টাকাটা ফেরত দিচ্ছে না, তাই ফয়সালকে কাজটা দিয়ে পূর্বের টাকাটা তুলতে হবে। আর ফয়সালও কাজ খুঁজছে। বিপ্লব (নানকের পিএস) কাজটা কামরুজ্জামান রুবেলকে দিয়েছে, আর সে কাজটা ফয়সালকে দিয়েছে ‘হাদি’কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ। জবানবন্দিতে এসবের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। রুবেলের জবানবন্দিতে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে আওয়ামী লীগ নেতা নানকের সহকারী বিপ্লবের নির্দেশে হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আশা করছি ফয়সাল ও আলমগীরের মতো বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরাতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে বিপ্লব কার আদেশে এই হত্যার হুলিয়া দেয় এবং কারা অর্থের যোগানদাতা- সেসবও তদন্তের মাধ্যমে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। রুবেল আহমেদ যদি তার জবানবন্দিতে সব সত্য তথ্য প্রদান করে থাকেন, তাহলে যা দাঁড়ায় তা হলো- তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর জানতে পারেন যে হাদি ও কাফিকে হত্যার পরিকল্পনা হচ্ছে এবং কারা তা ঘটাতে পারে। সেসব জেনেও তিনি কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে অবগত করেননি। উল্লেখ্য, এসময় রুবেল আহমেদ জামিনে মুক্ত ছিলেন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!