ইরানে হামলার প্রভাবে শেয়ারবাজারে সূচকে বড় পতন, লেনদেনেও ভাটা

চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার শেয়ারবাজারে বড় পতনে লেনদেন শেষ হয়। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৩৬টি বাদে সবগুলোর দরপতন হয়। বড় এই দরপতনে এক্সচেঞ্জটির সবগুলো মূল্যসূচক দিনের ব্যবধানে ২ শতাংশের ওপরে কমেছে। দরপতন ও সূচকে বড় পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেনের শুরুতেই ডিএসইতে প্রায় সবগুলো শেয়ার ও ইউনিটেরর দাম কমার তালিকায় অংশ নেয়। এতে লেনদেন শুরুর মাত্র ১ মিনিটেই সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সূচক ২২৩ পয়েন্টে কমে যায়। মাত্র ১ মিনিটে সূচকের এত বড় পতন এটিই শেয়ারবাজারে প্রথম। পরে অবশ্য কয়েকটি শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় আসে। এতে সূচকের রেকর্ড পতনের ব্যবধান পরে কিছুটা কমতে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি শেয়ার ও ইউনিটগুলোর মধ্যে মাত্র ৩০টি দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৫৩টির। আর ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বৃদ্ধির তুলনায় পতনে তালিকা প্রায় ১২ গুণ বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স দিনের ব্যবধানে ১৩৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬২ পয়েন্টে নেমেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে নেমেছে। এদিকে বড় দরপতন ও সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতনের পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির লেনদেনও দিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পরিমান কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। গত বৃহস্পতিবার বাজারটিতে ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সবগুলো মূল্যসূচকে বড় পতন হয়েছে। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই দিনের ব্যবধানে ২৪৬ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৫১ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। আর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ১৬৫ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৪২২ পয়েন্টে নেমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৮টির এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিগতকাল রোববার এক্সচেঞ্জটিতে ১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজার খুবই সেনসিটিভ জায়গা। বিশে^র কোন দেশে যখনই যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রভাব পুঁজিবাজারে খুবই দ্রুত সময়ে পরে। অতীতেও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ^জুড়ে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। এ গতকাল রোববারও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় পুঁজিবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এই নেতিবাচক প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের অপসারণ ও নতুন গভর্নরের ইতিবাচক বার্তায় শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছিল। আগের কয়েক কার্যদিবসেও শেয়ারবাজার উত্থানের ধারাবাহিকতায় ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল শেয়াবাজারে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলাকে কেন্দ্র করে এই বড় পতন দেখা গেল।




