জাতীয়প্রধান খবর

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: বাণিজ্যমন্ত্রী

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জনসেবার মান বাড়াতে হবে। সরকারকে এমন জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে। ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আবারও ১৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিল। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার আকাক্সক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়। ১৯৭৫ সালের আগের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সে সময় দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত ছিল। জাতীয়করণের ফলে অনেক লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তিনি আরো বলেন, তখন ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের সিপাহি ও বাইরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এক জায়গায় মিলেছিল। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করেন। তার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয় এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। জিয়াউর রহমানের সততা ও কর্মনিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও মানুষ একই ধরনের সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে। এ মানদণ্ড থেকে বিচ্যুতি মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ ও তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রমুখ।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!