বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান গ্রহণ করেছে ভারত: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারত সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় মনোভাব। ভারত এরই মধ্যে বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান গ্রহণ করেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চাইলে ভারতকে অবশ্যই সীমান্তহত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ করতে হবে। ভারতের সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে, সমতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে। মর্যাদা ও পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষার ভিত্তিতে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সার্বিক সম্পর্ক নির্ভর করবে। রাশেদ খাঁন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময় ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বা রাঁখি বাঁধার সম্পর্ক ছিল। ভারতকে মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ নেই। বাংলাদেশের নেতৃত্বে এখন বিএনপি। কাজেই, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, ফাসিস্ট শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফিরবে না। কারণ, সে জানে, দেশে ফিরলে তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে। আর কোনো ডিসেম্বরেই সে ফিরবে না। এসময় জামায়াত ও এনসিপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির এমপিরা আজ বিএনপির এমপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা দাবি করছে। তারা বারবার বলছে, সরকার নাকি ৬ মাস রাষ্ট্র চালিয়ে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমি মনে করি, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যখাতসহ সব সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সেই ভেঙে পড়া অবস্থা থেকে দেশকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধীরে ধীরে একটি স্থিতিশীলতা দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সহযোগী হিসেবে জামায়াত ও এনসিপির উচিত এই সরকারকে সহযোগিতা করা। তারা যদি বিরোধিতা করতেই থাকে, তাহলে তারাও এই দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়বে। এর আগে, মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হাসপাতালের নানা সংকট, সীমাবদ্ধতা ও তার সমাধান নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. হাসানুজ্জামানসহ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




