জামালপুরের আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আলোচিত চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড ও সাত জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন। ৫ আগস্টের পর মামলাটি রাজনৈতিক দেখিয়ে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হলে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রচারিত হয় এবং প্রত্যাহারের সুপারিশ বাতিল করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেফতার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে পুলিশ যায়। মোস্তফার বাড়ি চিনতে না পেরে পুলিশ রাস্তার পাশে থাকা প্রতিবেশী মহর আলী ও তার ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চায়। তাদের দেখানো তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে মহর ও স্বপনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় মোস্তফার সমর্থক সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে সাদ্দামের কথিত প্রেমিকাকে তুলে আনার কথা বলে তাদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নেওয়া হয়। সেখানে মোস্তফার লোকজন মহর আলী ও তার ভাজিতা স্বপন মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পরে জবাই করে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেতে দুজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহর আলী গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে ও মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। ভাতিজা স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো। সম্পর্কে তারা আপন চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষের ভিত্তিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাত জন আসামীকে মৃত্যুদ- ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদ- প্রদান করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। এছাড়াও চাঁন মিয়া, মো: জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফাকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার ছেলে এবং ভাই প্রতিহিংসামূলক হত্যার শিকার হলেও ৫ আগস্টের পর এই হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক মামলা দেখিয়ে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। পরে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয় এবং প্রত্যাহারের সুপারিশ তালিকা থেকে মামলাটি বাদ দেয়া হয়। এই রায় ঘোষণায় আমরা সন্তুষ্ট এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যক্রর দেখতে চাই।




