জাতীয়প্রধান খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণকালে কোনো প্রচার নয়: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সারা বিশ্ব এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, ঐতিহাসিক এ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আশা করি একটি সুন্দর নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, পুরো জাতি, এমনকি বিশ্ববাসী জানেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। ১৯৯১ সালের পর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তারা এতে অভ্যস্ত নন। প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ ধরনের নির্বাচনে আমাদের দক্ষতাও খুব বেশি নয়। প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতির ঘাটতি আছে। তারপরও যা কিছু করা সম্ভব, আমরা সব করেছি। সিইসি জানান, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন থাকলে একভাবে এবং অধিবেশন না থাকলে অন্যভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশন না থাকলে সিইসি বৈঠক আহ্বান করতে পারেন এবং সেই বৈঠকে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। এবারও এ ধরনের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিএনপির একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের দুটি মনোনয়নপত্র ছিল। সংসদ সচিবালয় প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ পাওয়া গেছে এবং কোনো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সিইসি বলেন, মনোনয়নপত্র একই ব্যক্তির একাধিক থাকলে একটি রেখে বাকিগুলো গ্রহণ করা হয়। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীও এ নির্বাচনে ভোটার। স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ ও তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোটের ফলাফল সম্পর্কে সিইসি বলেন, যাচাই-বাছাই ও ভোটের ফলাফলে সিইসি বা নির্বাচনী কর্তা হিসেবে আমি যে ফল ঘোষণা করবো, সেটিই চূড়ান্ত। ভোটের দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটগ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বিটিভি এ সম্প্রচারে থাকতে পারে। এরপর সম্প্রচার বন্ধ থাকবে এবং ভোট গণনার সময় আবার সম্প্রচার করা হবে। ভোটাররা ভোট দেওয়ার পর সংসদে অবস্থান করতে পারবেন এবং গণনার সময়ও উপস্থিত থাকতে পারবেন বলে জানান সিইসি। গণনা শেষে সবার সামনে বিস্তারিত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কতটি ব্যালট বাতিল হয়েছে, কতটি নষ্ট হয়েছে, কত ভোট পড়েছে এবং প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন-সব তথ্য প্রকাশ করা হবে। এরপর বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। সিইসি বলেন, দ্যাট ইজ ফাইনাল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!