
খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্রাবণের মেঘলা আকাশ। কালো মেঘে ঢাকা চারদিক। এর মধ্যেই মাঠজুড়ে মানুষের ঢল। হঠাৎ বাঁশির শব্দ। মুহূর্তেই টগবগ শব্দ তুলে ছুটে চলল একের পর এক ঘোড়া। ঘোড়ার খুরের শব্দ আর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে উঠল পুরো এলাকা। শিশু-কিশোর থেকে বৃদ্ধ–হাজারো মানুষ মেতে উঠলেন গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়ের আনন্দে।
শনিবার বিকেলে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের চর নাংলায় স্থানীয়দের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
দুপুরের পর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীরা প্রতিযোগিতার মাঠে ভিড় করতে থাকেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের চারপাশ, সড়ক ও আশপাশের উঁচু স্থানগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। ঘোড়দৌড় শুরু হতেই দর্শকদের মধ্যে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। ঘোড়ার সঙ্গে যেন ছুটতে থাকে দর্শকদের চোখও। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস ছিল সবচেয়ে বেশি। নারী ও বয়স্কদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
আয়োজক কমিটির সদস্য মনির হোসেন বন্যা জানান, বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের অর্ধশতাধিক ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দুই প্রতিযোগীকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় দুটি রেফ্রিজারেটর। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ঘোড়ার মালিক ও সওয়ারিদেরও বিভিন্ন পুরস্কার দেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনোদনের চাপে গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদকসহ নানা অপরাধ থেকে দূরে রাখতেই এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিজুড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম সোনারু। প্রধান অতিথি ছিলেন বালিজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা। উদ্বোধন করেন মাদারগঞ্জ উপজেলা জিসাসের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম শাহিন।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, একসময় গ্রামবাংলার মাঠে-ময়দানে ও হাটে ঘোড়দৌড় ছিল পরিচিত দৃশ্য। আধুনিক বিনোদনের চাপে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
বালিজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মুসা বলেন, ঘোড়দৌড় আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। নতুন প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্য তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয়েছে। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রতিযোগীরা এসেছেন। মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি আমাদের উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে।




