আফগানি নারীদের ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নিলো আইসিসি

দীর্ঘদিন ধরেই তালেবানদের শাসন চলছে আফগানিস্তানে। সেখানে নারীদের চলাচলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে দেশটির সরকার। নারীদের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করাও নিষিদ্ধ। যে কারণে আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট থমকে গেছে। আফগান নারী ক্রিকেটারদের অনেকে বিশে^র নানা স্থানে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন। আফগান নারী ক্রিকেটারদের খেলায় ফেরানোর ব্যাপারে এবার জোরেশোরে এগোচ্ছে আইসিসি। সর্বশেষ স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য পরিচালিত ডেভেলপমেন্ট পাথওয়ে প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এছাড়া আইসিসি স্পেশাল টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দলটিকে আইসিসির বাছাইপর্বের (কোয়ালিফিকেশন) টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছে। আইসিসি বোর্ড তাদের স্বাধীন পরিচালক ড. রোজ রিভাজ এবং আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সারা কিনকে স্পেশাল টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। তারা আগের সদস্যদের (বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের) সঙ্গে মিলে এই কর্মসূচির তদারকি করবেন। লক্ষ্য থাকবে নারী ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা। আইসিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ড. রিভাজ বলেছেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আইসিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। টাস্কফোর্সকে এমন একটি সুস্পষ্ট ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা কাঠামোবদ্ধ কোচিং, অর্থবহ প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্স উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের বিকাশে সহায়তা করবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এই কর্মসূচি ক্রিকেটের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আইসিসির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমি টাস্কফোর্সের সহকর্মী, সদস্য বোর্ড ও বাস্তবায়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করতে চাই, যাতে এটি উদ্দেশ্যপূর্ণ, সৎ ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়।’ আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের একজন নাহিদা সাপান বলেন, ‘এই কর্মসূচি আমাদের শুধু ক্রিকেট চালিয়ে যেতে সাহায্য করেনি, বরং দল হিসেবে একত্রিত হয়ে খেলতে সুযোগ করে দিয়েছে। আইসিসি ও টাস্কফোর্স আমাদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে – এটা জেনে আমরা আশ^স্ত। অন্য দেশের ক্রিকেটারদের মতো আমাদেরও সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে – এই স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ আরেক আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটার ফিরোজা আফগান বলেন, ‘গত এক বছরে দল হিসেবে একত্রিত হওয়া এবং ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের সুযোগ আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। নিজ নিজ অবস্থানে মানসম্পন্ন কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ আমাদের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আমাদের সামনে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই পথচলায় প্রতিটি সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’ অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেল জোন্স এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই অসাধারণ নারীদের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তাদের ভবিষ্যতের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এটি শক্তিশালী একটি বার্তা দেয় যে প্রতিভা ও দৃঢ়সংকল্প সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। এই ক্রিকেটাররা বিশে^র নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাদের বিশেষ যাত্রাপথকে স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়ন ও অর্থবহ প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি একটি পথচলা দেখতে পারা সত্যিই আনন্দের।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘গত এক বছরে তারা যে অগ্রগতি করেছে, তা অসাধারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই দল কী অর্জন করে, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রিকেট কোচ, স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের সেবা পেতে থাকবেন। পাশাপাশি ধাপে ধাপে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগও বাড়ানো হবে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডাভিত্তিক এই ক্রিকেটাররা স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং সেখানে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন। এছাড়াও গত ১২ মাসে ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের মতো ভবিষ্যতেও দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। এসব যৌথ প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজন করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি ও উন্নয়নে সহায়ক হবে।




