আন্তর্জাতিক

জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালালো ইরান

জর্ডানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। হামলায় মার্কিন ঘাঁটিটির জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারগুলোতে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে তেহরান। গতকাল সোমবার সকালে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির। আইআরজিসি জানিয়েছে, গতকাল সোমবার ভোরে তাদের অ্যারোস্পেস বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ হাবটিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। হামলার পর ছড়িয়ে পড়া স্যাটেলাইট ছবিতেও প্রিন্স হাসান বিমান ঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রোববার রাতে ইরানের উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের সরাসরি জবাব হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। প্রেস টিভির তথ্যমতে, ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা কেবল জর্ডানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই সময়ে ইরানি সেনাবাহিনীর নিয়মিত বাহিনী কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতে মার্কিন প্যাট্রিওট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদ ডিপো ও রাডার সাইট এবং বাহরাইনে মার্কিন যোগাযোগ ও রাডার স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসিরি মতে, এই সুসংগত অভিযানগুলো বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে তুলে ধরে। ইরানে আগ্রাসন চালালে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই হামলার মাধ্যমে তা প্রমাণ করা হয়েছে বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যোদ্ধাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের শত্রুতামূলক আচরণ বজায় রাখে, তাহলে এর চেয়েও আরো কঠোর, ব্যাপক এবং মারাত্মক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।”

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!