দেশে ৬৪টি জিআই পণ্য নিবন্ধিত রয়েছে: শিল্পমন্ত্রী

বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এতথ্য জানান। বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শিল্পমন্ত্রী জানান, নিবন্ধিত জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র, কৃষিপণ্য, খাদ্যসামগ্রী, হস্তশিল্প এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক বিভিন্ন পণ্য। এসব পণ্য দেশের ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটায়। সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, নিবন্ধিত জিআই পণ্যের মধ্যে রয়েছে- জামদানি শাড়ি, বাংলাদেশের ইলিশ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম, নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদামাটি, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল, বাংলাদেশের কালিজিরা চাল, রংপুরের শতরঞ্জি, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম, শেরপুরের তুলশীমালা চাল, বাংলাদেশের শীতলপাটি, বগুড়ার দই, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ল্যাংড়া আম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের আশ্বিনা আম। এ ছাড়া জিআই পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে- নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই, কুষ্টিয়ার তিলের খাজা, রংপুরের হাঁড়িভাঙা আম, মৌলভীবাজারের আগর ও আগর আতর, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মণ্ডা, যশোরের খেজুরের গুড়, নরসিংদীর অমৃতসাগর কলা, রাজশাহীর মিষ্টি পান, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা, জামালপুরের নকশিকাঁথা, টাঙ্গাইলের শাড়ি, নরসিংদীর লটকন, টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারস, ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই এবং মাগুরার হাজরাপুরি লিচু। জিআই স্বীকৃতি পাওয়া অন্যান্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে- সিলেটের মণিপুরি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের গামছা, মিরপুরের কাতান শাড়ি, ঢাকাই ফুটি কার্পাস তুলা, কুমিল্লার খাদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী, গোপালগঞ্জের কাঁসার গহনা, সুন্দরবনের মধু, শেরপুরের ছানার পায়েশ, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি, গাজীপুরের কাঁঠাল, কিশোরগঞ্জের রাতাবোরো ধান, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের চিজ, বরিশালের আমড়া, কুমারখালীর বেডশিট, দিনাজপুরের বেদানা লিচু, মুন্সীগঞ্জের পাটক্ষীর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের জামুর্কি সন্দেশ এবং নওগাঁর নাক ফজলি আম। পাশাপাশি ঢাকাই ফুটি কার্পাসের বীজ ও গাছ, মেহেরপুরের মেহেরসাগর কলা, নেত্রকোনার বালিশগঞ্জ মিষ্টি, ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি, মেহেরপুরের হিমসাগর আম, ফরিদপুরের পাট, মেহেরপুরের সাবিত্রী মিষ্টি, কালীগঞ্জের গামছা, জয়পুরহাটের লতিরাজ কচু এবং মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়ও জিআই পণ্যের তালিকায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।




