কোনো সংশোধনী ছাড়াই সংসদে ৯ বিল পাস

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধনী বিল এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিলসহ গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলগুলো কোনো সংশোধনী ছাড়াই কণ্ঠভোটে পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দিতেই এসব বিল আনা হয়। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, সেগুলো হুবহু অনুমোদন করা হোক। এদিন পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এরপর বিলটি পাস হয়। এরপর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান পৃথকভাবে চারটি বিল পাসের প্রস্তাব করেন। বিলগুলো হলো- ‘কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’, ‘সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। প্রতিটি বিলই কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে কয়েকটি বিল সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সংশোধন বিল, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা সংশোধন বিল, ২০২৬’ সংসদে তোলেন। এর মধ্যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিল দুটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কৌতুকভরে বলেন, খুব দুঃখের ব্যাপার, এতক্ষণ যা বললাম আমার আবার ‘শেখ হাসিনা’ও বলতে হচ্ছে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সংসদে উপস্থিত হয়ে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট সংশোধন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটিও কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকালে পাস হওয়া প্রতিটি বিলই শেষ পর্যন্ত দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী ছাড়াই কণ্ঠভোটে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এর আগে জাতীয় সংসদে গত সোমবার সাতটি, গত রোববার দুটি বিল পাস হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত অধ্যাদেশভুক্ত ১৮টি বিল পাস হলো।




