বিনোদন

১৫-২০ বছর পরের গল্প নিয়ে পর্দায় ফিরছে ‘থ্রি ইডিয়টস’

বলিউড ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং কালজয়ী সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুেয়ল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের মাঝে তুমুল আগ্রহ কাজ করছে। অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমাটি নিয়ে নতুন এবং দারুণ এক তথ্য শেয়ার করেছেন এর নির্মাতা রাজকুমার হিরানি। তিনি জানিয়েছেন, এবারের গল্পটি আর কলেজের ক্যাম্পাস জীবন নিয়ে নয়, বরং চরিত্রগুলোর মধ্যবয়সের গল্পকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হিরানি নিশ্চিত করেন, সিনেমার চিত্রনাট্য লেখার কাজ বর্তমানে চলছে এবং শুটিং শুরুর আগে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। হিরানি বলেন, ‘আমি এখনো চিত্রনাট্যটি নিয়ে কাজ করছি। এখনো অনেক কাজ বাকি। মূল গল্পটি গড়ে উঠেছে এই চরিত্রগুলোর ১৫ থেকে ২০ বছর পরের জীবনকে ঘিরে।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, ২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার ছবিটির সেই পরিচিত ক্যাম্পাস পরিবেশ থেকে এবার গল্প অনেকটাই দূরে সরে যাবে। এবার ফোকাস করা হবে-র‌্যাঞ্চো, ফারহান এবং রাজু কীভাবে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক জীবন, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দায়িত্বগুলো সামলাচ্ছেন তার ওপর। এই নির্মাতা যোগ করেন, ‘এটি কোনো কলেজ বা ওই জাতীয় বিষয় নিয়ে নয়। তারা এখন বিবাহিত এবং তাদের সন্তান রয়েছে। তারা মূলত ‘মিড-লাইফ ক্রাইসিস’ বা মধ্যবয়সের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং, আমাদের দেখতে হবে এরপর তাদের জীবনে কী ঘটে।’ পূর্বের সিনেমার মতোই এই সিক্যুেয়লেও একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন হিরানি। সিনেমাটিতে কোনো সামাজিক বার্তা থাকছে কিনা-জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই! খুব বড় একটি বার্তা থাকবে।’ চলতি বছরের শুরুর দিকে অভিনেতা আমির খানও সিনেমাটির সিক্যুেয়ল নিয়ে কাজ চলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, সিনেমার মূল ধারণা বা কনসেপ্টটি তিনি দেখেছেন এবং এটি তার কাছে বেশ সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে। আমির খানের মতে, গল্পটি মূল তিন বন্ধুকে প্রায় এক দশক পর আবার পর্দায় ফিরিয়ে আনবে। এটি মূলত কলেজ জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে চরিত্রগুলোর ভেতরের পরিবর্তন ও বিবর্তনকে তুলে ধরবে, যেখানে কমেডির পাশাপাশি থাকবে গভীর আবেগ। তবে হিরানি এবং আমির খান-উভয়েই পরিষ্কার করে বলেছেন যে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সিনেমাটি কবে নাগাদ মুক্তি পাবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘থ্রি ইডিয়টস’ ছবিটিকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাস্যরস, আবেগঘন গল্প এবং শিক্ষাব্যবস্থার তীব্র প্রতিযোগিতার ওপর চাবুক মারা পরিচালকের নির্মাণশৈলী ছবিটিকে আইকনিক করে তুলেছিল।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!