হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রেই আক্রান্ত রাশিয়া

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার একটি বড় ঢেউ নেমে আসার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং কেন তা এই ধরনের আক্রমণ পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। এ বিষয়ে গতকাল বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। গত বৃহস্পতিবার ভোরে হওয়া এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর ওপর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সিএনএন জানিয়েছে, এই হামলার সময় মস্কোর রাস্তায় বিশৃঙ্খলার দৃশ্য দেখা যায়, যেগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রুশ সেনারা ব্যস্ত একটি মহাসড়কে দাঁড়িয়ে কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আকাশে থাকা ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। এই সময় সাধারণ যানবাহন চলাচল অব্যাহত ছিল। একই সময়ে লোকজন আতঙ্কে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়, কারণ ওই সময় একটি ড্রোন বড় বাজারের মতো এলাকায় একটি ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি রুশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো একটি তেল সংরক্ষণাগারে আঘাত হানে। এতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠে যায়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, ‘এটি কার্যত রাশিয়ার আত্মঘাতী গোল।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহস্পতিবারের হামলা আবারও দেখিয়েছে যে ইউক্রেন কীভাবে ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করছে। তাদের কৌশল হলো একসঙ্গে বহু ড্রোন পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে ফেলা, যাতে সব লক্ষ্যবস্তু একসঙ্গে ধ্বংস করা সম্ভব না হয়। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মার্কাস শিলার সিএনএনকে বলেন, ‘রাশিয়ার পুরোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবসময় শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। অন্যদিকে ইউক্রেন বছরের পর বছর ধরে তাদের আক্রমণ সক্ষমতা উন্নত করছে।’ ২০২৪ সাল থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরের তেল শোধনাগার এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি তারা সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রতিরক্ষা ভেদ করেও হামলা চালায় এবং মস্কোতে একাধিকবার আঘাত হানে, যার ফলে রাশিয়ার দুই বৃহত্তম শহরেই পৌঁছে গেছে যুদ্ধের প্রভাব।




