জাতীয়প্রধান খবর

স্বতন্ত্র পে-স্কেল, ঝুঁকি ও ওভারটাইম ভাতা চায় পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কল্যাণ সভা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের দাবি জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। একই সঙ্গে ওভারটাইম ও ঝুঁকি ভাতা চেয়েছেন তারা। এ ছাড়া চাকরি জীবনের শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে অনারারি পদোন্নতির দাবিও জানিয়েছেন। গতকাল রোববার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পুলিশের কল্যাণ সভা থেকে এসব দাবিসহ এক গুচ্ছ দাবি উত্থাপন করা হয়। পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের আশ^াস দেন। কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপিসহ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা। পে-স্কেল প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র পে-স্কেল পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি। বাংলাদেশে বিচার বিভাগ ও সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালু আছে। দেশ ও জনগণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সবচেয়ে বেশি সেবা দিয়ে থাকে। তাই তাদের মতো পুলিশের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের দাবি আজ কল্যাণ সভার আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানানো হয়েছে। মামলার তদন্তের বেশিরভাগ কাজ করেন থানার উপ-পরিদর্শকরা (এসআই)। কিন্তু তাদের যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য যানবাহন অপ্রতুল। মামলার তদন্ত কাজে গতি আনতে ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমাধানে মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত লোন ও মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচার বিল দাবি করেন বিমানবন্দর থানার ওসি ও বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার। কল্যাণ সভার আলোচনায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করে বলেন, তদন্ত ব্যয় বেড়েছে। সেটি বাড়িয়ে দেওয়া হোক। তদন্ত কাজে জড়িত এসআইদের জন্য থানা থেকে আলাদা কোনো যানবাহন নেই। মোটরসাইকেল কিনতে অগ্রিম সুদমুক্ত লোন ও জ্বালানি খরচ দিলে তদন্ত কাজে গতি বাড়বে। একইসঙ্গে কল্যাণ সভায় ঝুঁকি ভাতাসহ ওভারটাইম ডিউটি বাবদ ভাতার দাবি উত্থাপন করেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ পদমর্যাদার কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশের কর্মঘণ্টার কোনো ঠিক নেই। আমরা ডিউটি রোস্টারের বাইরে প্রায়দিনই ওভারটাইম করতে হয়। এজন্য একজন কর্মকর্তা ওভারটাইম ডিউটি বাবদ ভাতার দাবি উত্থাপন করেছেন। একইসঙ্গে ঝুঁকি ভাতার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আরও জানান, সভায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) একজন নারী কনস্টেবল অনারারি পদোন্নতি দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা যারা কনস্টেবল বা ইন্সপেক্টর ওই জায়গা থেকে রিটায়ার্ড করে। বিশেষ করে কনস্টেবলরা যাতে রিটায়ার্ডের আগে অন্তত একটা র‌্যাংক পদোন্নতি দিয়ে অবসরে পাঠানো হয়; যেটা সেনাবাহিনীতে আছে। এতে করে সরকারের আবার কোনো আর্থিক ভর্তুকিও লাগবে না। অনারারি পদোন্নতি কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত এটা চাওয়া হয়েছে। কল্যাণ সভায় অংশ নেওয়া একজন ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) ঢাকা পোস্টকে বলেন, পুলিশের থানা, ব্যারাক, থানা ফাঁড়িসহ বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল কাজের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প বাবদ অর্থ বরাদ্দ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। সেটি নতুন করে চালুর আর্জি জানানো হয়েছে। পুলিশ সদরের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের আশ^াসও দিয়েছেন। উল্লেখ্য, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আজ সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং ভাষণ দেবেন। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন। তিনি পুলিশের বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শনী উপভোগ করেন। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা, দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন। শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!