সরকার পুরনো স্বৈরাচারী কায়দায়ই ফিরে যাচ্ছে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার পুরনো স্বৈরাচারী কায়দায় ফিরে যাচ্ছে। তারেক রহমানের আসলে কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারের ১৮০ দিনে অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে ওঠেছে। ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সর্বত্র লুটপাট ও দলীয়করণ করছে। ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় লং মার্চ থেকে সরকারকে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ‘ব্যর্থতা’র চিত্র তুলে ধরতে দলের পলিসি ও রিসার্চ বিষয়ক উপকমিটি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। নাহিদ বলেন, সরকারের ১৮০ দিনে জ্বালানি খাত বিপর্যস্ত। সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলে বরং দলীয় সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী করেছে। র্যাব বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভিন্ন নামে করার কথা বলছে। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক বসিয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ সব ক্ষেত্রেই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা চলছে। তবে বিরোধী দল তাদের অবস্থান থেকে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ৬ মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৭০টি বিএনপি ঘটিয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, সরকার গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার অঙ্গীকার করেছিল ক্ষমতাগ্রহণের দুই বছর বিদ্যুৎতের দাম বাড়াবে না। কিন্তু দুই মাসেই দাম বাড়ালো। এছাড়া লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল আসছে। ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে সময় একটা জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই সুপারিশ মানা হচ্ছে না। বর্তমানে কোনো সংকট হলে হয় ফ্যাসিস্ট না হয় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত থাকতে চাচ্ছে। অথচ এর চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের জন্য সরকারের ন্যূনতম দায় নেই। কোনো সংকট আসলে বিগত সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে, যা কোনোভাবে কাম্য নয়। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার আসার পরই ভয়াবহ জ্বালানি তেল সংকট শুরু হয়েছিল। সে সময় জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল। এতে গণপরিবহন, সেচ, সারসহ সব খাতে প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে গ্যাস চাহিদার ৪৩ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। ঢাকা শহরে চুলা জ্বলছে না। শিল্প কারখানার উৎপাদন কমেছে। নাহিদ বলেন, কৃষক সার পাচ্ছে না। বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতে হাম মহামারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে, কিন্তু সংকট এখনও কাটেনি। কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল গঠন করা হয়নি। শিক্ষাঙ্গন দখল করছে ক্ষমতাসীনদের ছাত্র সংগঠন। বিরোধী মতাদর্শের ওপর হামলা হলেও কোনো বিচার হয়নি। সরকার সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ। তবে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে সরকারকে ব্যাপকভাবে গণআন্দোলনের মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, গুম তদন্তে আস্থাহীনতা, কার্যকর মানবাধিকার কমিশন না থাকা, সাংবাদিকদের হয়রানিসহ নানা কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত। নাহিদ বলেন, ৫ আগস্ট ভারতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন দেশটির সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার রায়ের বিচার কার্যকর করার পর ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নতির দিকে নেওয়ার তাগিদ দেন নাহিদ ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা।




