আন্তর্জাতিক

সমঝোতা চুক্তি: কুর্দিরা ধাপে ধাপে একীভূত হবে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে

সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ধাপে ধাপে সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হবে। গতকাল শুক্রবার আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায় সরকারি বাহিনী। তবে গত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় রূপ নিয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার এসডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়। এর কিছুক্ষণ পর সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে। জানানো হয়, কুর্দি বেসামরিক প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে এবং চুক্তি তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হবে। গত তিন সপ্তাহে সরকারি বাহিনী সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এসডিএফের কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এই সমঝোতা হলো। এতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্ব আরও সুসংহত হলো বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মাসের পর মাস আলোচনার পরও কুর্দি যোদ্ধা ও রাজনৈতিক কাঠামোকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় আনতে না পারায় তার সরকার চাপের মুখে ছিল। চুক্তি অনুযায়ী, উভয়পক্ষের বাহিনী সামনের সারি থেকে সরে যাবে। সরকারি ইউনিটগুলো হাসাকা ও কামিশলির শহরকেন্দ্রে মোতায়েন হবে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে একীভূত করা হবে। তিনটি এসডিএফ ব্রিগেড নিয়ে একটি নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। কোবানে (আইন আল-আরব) ভিত্তিক আরেকটি ব্রিগেড আলেপ্পো গভর্নরেটের অধীনে যুক্ত হবে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দি নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীগুলোর গড়ে তোলা প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হবে। এসডিএফের ভবিষ্যৎ দীর্ঘদিন ধরেই সিরিয়ার রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন ছিল। একসময় তারা দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। ২০২৫ সালের মার্চে কুর্দি রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সমঝোতা হলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায়, পরে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সিরিয়া বিষয়ক দূত টম ব্যারাক এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি সিরিয়ার সব সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক সম্মানের প্রতিফলন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের পর সিরিয়ার পরিস্থিতির উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আল-শারা ওই আলাপচারিতায় সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএসআইএলবিরোধী লড়াইয়ে আগে এসডিএফকে সমর্থন দিলেও এখন যুক্তরাষ্ট্র আল-শারার সরকারকেই সিরিয়ায় প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে। এদিকে আল-শারা সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টাও জোরদার করেছে। গত বুধবার তিনি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে রাশিয়াও সিরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!