সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি চালু রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধীদলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার সংস্কৃতি চালু করেছিল আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি গালি দিতো বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকেও ছাড় দিত না। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিও সেই আওয়ামী লীগের কথাগুলো জপা শুরু করেছে। যে কথাগুলো জপতে জপতে আওয়ামী লীগ পড়ছে দিল্লিতে, আপনারা সেই কথা জপতে জপতে কোথায় গিয়ে পড়বেন? দেশের জনগণ এগুলো খায় না। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইতিমধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ, ইসলামি ব্যাংকের দিকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে দলীয় ভিসি নিয়োগ, জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দলীয় নেতা ও ক্যাডার নিয়োগ দিয়ে- এভাবে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশে কায়েম করার চেষ্টা করছে। ইতিহাস ভুলে গেলে হবে না। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল। কিন্তু এরপর অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। সুতরাং, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে হাজারও জালিয়াতি, সন্ত্রাস, কালো টাকার ছড়াছড়ি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরে আপনারা ১১ দলীয় জোটকে একটি আসন (নারায়ণগঞ্জ-৪) উপহার দিতে পেরেছিলেন। ভোটের মতো রেজাল্ট গণনা সুষ্ঠু হলে অন্য আসনেও জোটের বিজয় হত। আমাদের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার গঠনের আগে ও পরে আপনারা চাঁদাবাজদের হাত আটকাতে পারেননি। ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ করেননি, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। কিছু দলকানা মানুষ ও গোষ্ঠীর হয়তো ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আমরা ছেড়ে দেবো না, শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো: এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় গণভোট হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে। সে সময়েও আপত্তি করেন নাই। তৃতীয় গণভোট হয়েছে বেগম জিয়ার হাতে সেটাও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু চতুর্থ গণভোট হয়েছে জনগণের হাতে, এইটা আপনারা মেনে নেবেন না তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা ছেড়ে দেবো না। কথা ওনারাও দিয়েছিলেন। আমরাও দিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের জায়গায় আছি। ওনারা সরে গেছেন। আমরা গণভোটের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই দাবি আদায় করবো। জনগণের রায় বিফলে যাবে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আমাদের একটা বাজেট দিয়েছেন। বাজেটে ৫০-৬০টি আইটেমে কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এক টাকাও কমেনি। কারণ সব জায়গায় সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট আবার রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে ও আশ্রয়ে ওই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়। এ সময় জামায়াত আমির প্রশ্ন তোলেন, বাজেটে অনেক কর ছাড় দেওয়া হলো, কিন্তু এতে যদি জনগণের জীবনে যদি ইতিবাচক পরিবর্তন, স্বস্তি না আসে তাহলে এটার বেনিফিট কে নিচ্ছে? বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা সংসদে গিয়ে প্রথমেই বলেছি জনগণের রায়টাকে মানেন। গণভোটকে মেনে নেন। আমরা যেটা শপথ নিয়েছি, আপনারাও শপথ নেন। কিন্তু ওনারা বলে গণভোট সংবিধানে নেই। জিয়াউর রহমান প্রথম গণভোট করেছিলেন কোন সংবিধানে? জিয়াউর রহমানকে সম্মান করেন, তার গণভোটকে সম্মান করেন তাহলে ২০২৬ গণভোটকে কেন সম্মান করেন না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের সংবাদমাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্যকে তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। আমাদের যুব সমাজ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করে, সেটা আমরা পেয়ে যাবো। এখানে যারা ক্যামেরা ধরে আছেন, আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে কোনো বয়স্ক মানুষ তেমন নাই। আমি একজন যুবক এবং আপনারা আরও বেশি যুবক। আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি। এ সমাজ আপনাদের, শুধু আমার নয়, সবার। আমরা সেই প্রত্যাশা পূরণে এগিয়ে যেতে চাই। আবার সেই সমাজের প্রয়োজনে যা উত্তম, যা কিছু ভালো, পরামর্শ দিয়েও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ করতে চাই, একটি ন্যায় বাংলাদেশ করতে চাই। তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ করতে চাই, গরিব আদালতে গেলে বিচার পাবে, ধনিও আদালতে গেলে বিচার পাবে। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না, সেই বাংলাদেশটা আমরা করতে চাই। বার্ষিক রুকন সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




