খেলাধুলা

শোচনীয় পরাজয়ের পর যা বললেন জ্যোতি

নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই বড়সড় হোঁচট খেলো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে সেভাবে পাত্তাই পায়নি টাইগ্রেসরা। আগে ব্যাট করে টেনেটুনে ২০ ওভারে ৭৭ রান তোলে বাংলাদেশ। যা ৬৩ বল এবং ৯ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় অজিরা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির কণ্ঠে ঝরেছে হতাশা। তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন অধিনায়ক। জ্যোতি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই আমি হতাশ। কারণ আমরা সবাই জানি যে দল হিসেবে আমরা এর চেয়ে ভালো। আমাদের বোলিং ইউনিট খুবই শক্তিশালী, তাই আমরা আগে ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। যদি আমরা বোর্ডে কিছু রান তুলতে পারতাম, তাহলে তাদের (অস্ট্রেলিয়ার) ওপর কিছুটা হলেও চাপ তৈরি করার সুযোগ থাকত। কিন্তু তা হয়নি, কারণ প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই আমরা প্রায় পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ফেলি। তখন মাঝের ব্যাটারদের জন্য সেট হওয়া এবং রান তোলা খুব কঠিন হয়ে যায়।’ ইংল্যান্ডের আলো-বাতাস বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অধিনায়ক জানান, ‘আমার মনে হয় এই উইকেট পেস বোলারদের জন্য খুব সহায়ক। তারা নতুন বলে খুব ভালো বোলিং করেছে এবং সেখানেই আমরা গতি হারিয়ে ফেলি। তবে মারুফা(আক্তার)ও নতুন বলে খুব ভালো বোলিং করেছে। কিন্তু আপনি যদি যথেষ্ট রানই না করেন, তাহলে বোলিং ইউনিটের করার মতো তেমন কিছু থাকে না।’ অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দেখে বাড়তি চাপ ছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যোতি জানান, ‘না, আমি বলব না যে সেরকম কোনো চাপ ছিল। আপনারা দেখেছেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভালো খেলেছি। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, আমরা আমাদের তৈরি করা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি। অন্তত নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যেমন টপ অর্ডার থেকে শুরু পেয়েছিলাম, তেমন একটা শুরু যদি পেতাম, অথবা ১৩০-এর বেশি রান করতে পারতাম, তাহলে আমাদের বোলারদের কিছু করার সুযোগ থাকত। বিশেষ করে উইকেট বোলারদের কিছুটা সাহায্য করছিল। কিন্তু যখন ব্যাটিং ইউনিটের অর্ধেকই অবদান রাখতে পারে না, তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ স্কোর গড়া খুব কঠিন হয়ে যায়।’ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দারুণ এক জয় দিয়ে বিশ^কাপের আসর শুরু করেছিল বাঘিনীরা। তবে অজিদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। হতাশা ঝেরে এখন সেদিকেই তাকিয়ে জ্যোতি, ‘প্রথমত, আমরা টুর্নামেন্টটা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম। প্রথম জয়টি আমাদের মোমেন্টাম এনে দিয়েছিল, কিন্তু আমরা সেটাকে ধরে রাখতে পারিনি। এখন আমাদের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। আমরা আসলেই আশা করছি সেখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমি বিশ^াস করি, দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তাই আমরা সামনে তাকিয়ে আছি এবং পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছি।’ ২ ম্যাচে ১ জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৩য় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পরের ম্যাচ ২০ জুন, পাকিস্তানের বিপক্ষে, সাউদাম্পটনে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!