জাতীয়

শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আমরা ক্ষমতা থেকে সরাতে চেয়েছি, কারণ তিনি ইনসাফ করেন নাই। পরবর্তী যে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে- তার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে ইনসাফ থাকবে। এমনকি শত্রুর প্রতি ইনসাফ থাকবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন, তাকে কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিছু আমরা আসলে করবো না। আমাদের কাছে প্রতিজ্ঞা কী? আমরা জুডিশিয়ালি করবো। ওনার বিচার হয়েছে, ওনাকে আবার ডিফেন্ড করতে দেওয়া হবে। তাতে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ যদি তিনি মুক্তি পান, টেকনিক্যালি বলছি, সেটা আমরা মানবো। আর যদি না হয় সেটা কার্যকর হবে। এটাই হচ্ছে ইনসাফ। কারণ মৃত্যুদণ্ড হওয়াও কিন্তু ইনসাফ যে, আমি আপনাকে প্রপার বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাজটা করেছি। এদিকে, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হবে এবং সেখানে পানি সংরক্ষণের অপশন যুক্ত করে নতুনভাবে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়ে ডা. জাহেদ বলেন, আমি জয়েন্ট রিভার কমিশনের (জেআরসি) একজন উপদেষ্টা হিসেবে বিষয়টি ক্লিয়ার করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে মূল প্রশ্ন ছিল- শুধু ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীকে প্রায় ৮০০ মিটার প্রশস্ততায় সীমিত করা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি এবং তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কেন্দ্রিত। তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকায় ভাঙন একটি বড় সমস্যা, বন্যাও বড় সমস্যা। কিন্তু পরিকল্পনায় পদ্মা ব্যারাজের মতো পানি ধরে রাখার কোনো কার্যকর অপশন ছিল না। অথচ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির সংকট প্রকট হয়ে পড়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি পদ্মা ব্যারেজে বর্ষার পানি ধরে রেখে তা শুকনো মৌসুমে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে তিস্তায় কেন সেই চিন্তা থাকবে না। এ কারণে বিদ্যমান প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নতুন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে মহাপরিকল্পনাটি সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। আমরা আশা করছি, জনগণ বুঝতে পারবেন- এটি জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের জন্য আরও কার্যকর ও ব্যাপক প্রকল্প হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে এবং বাহিনীটির নামও পরিবর্তন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্তির যে দাবি বিএনপি করেছিল, এক অর্থে সেভাবে র‌্যাব আর থাকছে না। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, র‌্যাবের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করা হবে। নতুন আইনে র‌্যাবের সব কার্যক্রম আরও সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, র‌্যাবের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং আইন প্রণয়নের কাজেও সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, অতীতে র‌্যাবকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। শেখ হাসিনার সময় যেভাবে র‌্যাবকে ব্যবহার করা হয়েছে, তা ছিল সরকারের প্রত্যক্ষ সমর্থনে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এমন ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, একটি রাষ্ট্রে দক্ষ এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। র‌্যাব নানা ধরনের সন্ত্রাস ও অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। তাই এলিট ফোর্স থাকবে, সেটা র‌্যাব নামে হোক বা অন্য কোনো নামে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না। বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধেও বিচারিক প্রক্রিয়াতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কোনো এক্সট্রা জুডিশিয়াল পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনে উসকানির অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আবার কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা হলে সরকার সেটিও দেখবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!