প্রধান খবরসারাদেশ

রানা প্লাজা থেকে বেঁচে ফেরা নাসিমার মৃত্যু হলো ফেরি দুর্ঘটনায়

২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে জীবিত ফিরে এসেছিলেন নাসিমা বেগম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-এক যুগ পর আরেক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযুদ্ধ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম (৩০)। তিনি তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া সেই সাহসী নারীদের একজন ছিলেন। ২৫ মার্চ বিকেলে ঢাকায় ফেরার পথে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাসে করে রওনা হন নাসিমা। সঙ্গে ছিলেন তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগ্নি আজমিরা খাতুন, ভাগ্নির স্বামী আব্দুল আজিজ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দুর্ঘটনার সময় সবাই বাসে ছিলেন। পরে ভাগ্যক্রমে কেবল আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হন। দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, তার ভাগ্নি এবং শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সন্ধানে সাভারে গিয়েছিলেন নাসিমা। এক মাস চেষ্টার পরও চাকরি না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের সঙ্গে ফরিদপুরে যান। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। গতকাল শনিবার পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আটরাই এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন নাসিমা। কিন্তু আরেক দুর্ঘটনা তার সেই সংগ্রামের ইতি টেনে দিল-যা এলাকাবাসীর মনে গভীর শোক ও বেদনার জন্ম দিয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!