বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওইদিন দুপুর ২টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হবে। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভায় তিনি একথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হতো। আমরা এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করেছি। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষাস্তর পর্যায়ের ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসা ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্র থেকেও শিক্ষক নির্বাচন করা হবে। এবার শিক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও প্রত্যেকের সম্মাননার অর্থ দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে ১২ জনকে দুই লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা দেওয়া হতো। এবার ১০০ জনকে এক লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। শিক্ষক নির্বাচনের জন্য একটি কমিটি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। ওই নীতিমালায় ১২-১৩টি মানদণ্ড রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের ১০০ জনের সম্মাননা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত উদ্যোগের অংশ হতে পারে। দেশের শিক্ষার্থীদের তৈরি করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা বিবেচনায় তাদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কাজ করবে। আগামী দিনগুলোতে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এখন পর্যন্ত নিয়োগবঞ্চিত ৮১৭ জনকে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ওই সময়ের মধ্যে নিয়োগ পাবেন না, তাদের বিষয়েও কাজ করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার। যথাযথভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ৩৩ জনের ৮৫৪ জনের ফাইনাল অ্যাপ্লিকেশন এসেছে। ডিপিও ইস্যু করে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভেরিফিকেশনের সময় অনেকের ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সে সময় দেখা গেছে তাদের ভেরিফিকেশন এবং অনেকেই ঠিকানা পাল্টিয়েছেন। সেগুলো পর্যায়ক্রমে তারা দিচ্ছে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে ভেরিফিকেশন হচ্ছে, ঠিকানা আসছে। যাদের হয়নি, সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং সেগুলো রিভিউ করছি। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এটা চলবে। মন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত ৮১৭ জন নিয়োগবঞ্চিত রয়েছেন। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। এরপরও যারা নিয়োগ পাবেন না, তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি আপাতত বন্ধ রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী মিলন বলেছেন, তবে চলমান প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও সংযুক্তির কারণে কিছু চলমান বিষয় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বদলি ও সংযুক্তির বিষয়গুলো নিয়ম অনুযায়ী সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, নতুন করে বদলির আবেদন বা ফাইল নেওয়ার বিষয়ে আপাতত স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবে যেসব শিক্ষককে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে প্রতিস্থাপন বা সংযুক্তির বিষয় নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে অনলাইনভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বেসরকারি ও এনটিআরসিএ-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নে কিছু পরীক্ষকের দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। এসব খাতা আলাদাভাবে শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে এ মুহূর্তে কতজন শিক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি মন্ত্রী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর ২৭ হাজার ৮৩৬ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন এবং ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। পুনর্মূল্যায়নের পর ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এবার এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। পুনর্মূল্যায়নের জন্য লিখিত ও ব্যাবহারিক মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার আবেদন পাওয়া যায়। মন্ত্রী বলেন, অতীতে শুধু ট্যাবুলেশন শিটের নম্বর যোগ করার ভিত্তিতে পুনঃনিরীক্ষণ করা হতো। খাতার ভেতরে কোনো ভুল বা অনিয়ম থাকলে তা অনেক সময় ধরা পড়ত না। শিক্ষার্থীরা ভুল মূল্যায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার ফলকে কেন্দ্র করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ কারণে এবার খাতা পূর্ণাঙ্গভাবে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




