জাতীয়প্রধান খবর

পুলিশ হত্যার বিচার যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর ‘হানাদার বাহিনীর মতো’ ঝাঁপিয়ে পড়া পুলিশ সদস্যদের হতাহতের ঘটনাকে ‘যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অভ্যুত্থানকারীদের ওপর, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে- তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে; কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানেই ফয়সালা হয়ে গেছে। এসময় জুলাই যোদ্ধাদেরকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অধ্যাদেশ জারি করার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছে যে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে কিনা এবং তারা বিভিন্ন দাবি করছে। আমি সেই বিষয়ে আরেক অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, রাজাকার হত্যার বিরুদ্ধে, যদি কেউ মামলা নিয়ে আসে? অভ্যুত্থানকারীদের ওপর, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মত ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে- তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে; কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানেই ফয়সালা হয়ে গেছে। জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’টি আমরা আগামী ২ এপ্রিল সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন ও পাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও যোগ করেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, সংসদীয় এই অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট প্রণয়ন ও প্রদানের জন্য আগামী দুই তারিখে (২ এপ্রিল) সেখানে আমরা আলোচনা করবো। আমরা জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ পার্লামেন্টে বিল আকার উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছি। শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কিছু মামলার রায় হয়েছে, যা দেশবাসী সরাসরি টেলিভিশনে দেখেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) বা অন্যান্য আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এ দেশের প্রতিটি গুম, খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পুলিশকে একটি সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব বাহিনীতে রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। মন্ত্রী জানান, অপরাধ শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অনলাইন জিডি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের দেশে-বিদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিডিএমএস ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ ও মামলা মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না: দেশে চলমান ‘মব কালচার’ আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করব। কিন্তু মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বিগত অন্তবর্তী সরকারের সময়ের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সময়ের ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মব কালচারের শিকার হয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে। এমনকি আমি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারি এর ভুক্তভোগী। এ কালচার বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট উচ্চারণ করেছি- বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না। দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার যে প্রবণতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেখা গিয়েছে, সেটাকে আমরা আর কখনো অ্যালাউ (অনুমতি) করব না। মব এবং সুসংগঠিত অপরাধের পার্থক্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবকিছুকে মব বলা ঠিক হবে না। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর করা সুসংগঠিত পরিকল্পিত অপরাধ। এর বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত হয় এবং আসামিদের বিচারের আওতায় আনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকবেই, তবে তা জানাতে হবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দফতরে স্মারকলিপি দেওয়া, সেমিনার করা বা জনসমাবেশ করার অধিকার সবার আছে। আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করব। কিন্তু মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!