তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আমাদের প্রবর্তন করতে হবেই, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এই সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং কত দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে; তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকার গঠন নিয়ে বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে কমিটি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনা হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। পরে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কী প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং কত দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে; এসব বিষয় পরীক্ষা করে দেখা হবে। সার্চ বডি অথবা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গঠনের ক্ষেত্রে বিতর্ক এড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমস্ত বিষয়গুলো আমরা পরীক্ষা করবো। এরপরও পার্লামেন্টে যখন বিতর্ক হবে, এই বিল উত্থাপনের পরে তখনও অনেক পরামর্শ-প্রস্তাব আসতে পারে। সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে জুলাই সনদে থাকা প্রস্তাবগুলো নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সনদে কয়েকটি প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এর মধ্যে র্যাঙ্কড চয়েস ভোটের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিটির নোট অব ডিসেন্ট ছিল। তাঁদের বক্তব্য ছিল, বিষয়টি সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, এর বাইরেও যদি অন্যান্য কোনো প্রস্তাব আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আসে, যেগুলো জাতীয়ভাবে গৃহীত হতে পারে, সমস্ত বিষয়গুলো আমরা পরীক্ষা করে দেখব। কমিটির সভাপতি জানান, সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে একাধিক প্রস্তাব এসেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, শিক্ষক ও সম্পাদকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো একত্র করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অবস্থান জানালেও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের সময়সীমা, ক্ষমতা ও কার্যপরিধি এবং কোন প্রক্রিয়ায় এর সদস্য নির্বাচন করা হবে; এসব বিষয় পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এমন ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে হবে, যাতে গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কম থাকে। সংবিধান সংশোধন বিল সংসদে উত্থাপনের পরও এ বিষয়ে আলোচনা ও নতুন প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানান তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




