জাতীয়

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিজ্ঞানমনস্কতা ও চলচ্চিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরলেন তথ্যমন্ত্রী

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’। গতকাল শুক্রবার জাতীয় গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর বিভিন্ন চলচ্চিত্রের নির্বাচিত অংশ প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া সকাল থেকে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একাধিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্রের অংশবিশেষ প্রদর্শিত হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট হলেও অনেকেই এখনো এটিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন না। তিনি বলেন, এ সংকট খালি চোখে দেখা যায় না বলে অনেকে এর বাস্তবতা অস্বীকার করেন। অথচ বিজ্ঞান বহু আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানবজাতিকে সতর্ক করেছে। করোনাভাইরাস মহামারির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনার জীবাণু আমরা খালি চোখে দেখিনি, কিন্তু তার প্রভাব থেকে বিশ্ব রক্ষা পায়নি। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও পদক্ষেপের কারণেই সেই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়েও বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্র অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। চলচ্চিত্র মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণে গভীর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চলচ্চিত্রের বিকল্প খুব কম। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আয়োজকরা শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুকে তুলে ধরেননি, বরং সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমকেও বেছে নিয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগকে নিয়মিত আয়োজন হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর আরও পরিকল্পিত ও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা উচিত। একইসঙ্গে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক চলচ্চিত্রকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুদান কার্যক্রমে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এ ধরনের উদ্যোগের প্রসারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। অনুষ্ঠানের শেষে তিনি আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, সীমিত পরিসরে শুরু হলেও এ উদ্যোগের প্রভাব বৈশ্বিক হতে পারে। দৃঢ় মনোবল ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!