সারাদেশপ্রধান খবর

গ্যাস সংকট কাটিয়ে দীর্ঘ আট মাস পর যমুনা সারকারখানায় উৎপাদন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৈনিক ১৭শ’ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানা গ্যাস সংকটে দীর্ঘ ৮ মাস বন্ধ থাকার ফের সার উৎপাদন শুরু করেছে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ থাকায় সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে সার উৎপদন শুরু হয়।
যমুনা সারকারখানা সূত্রে জানা যায়, নিরবচ্ছিন্ন সার উৎপাদনের জন্য কারখানায় দৈনিক ৪২-৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা এবং কারখানার বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে সার উৎপাদন নেমে আসে ১২শ’ মেট্রিক টনে। ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানিতে সার উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। ২০২৫ সালে গ্যাস সরবরাহ পেয়ে কিছুদিন সার উৎপাদন করা হলেও ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারী আবারো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়, চলিতি বছরের শুরু বেশ কিছুদিন গ্যাস পেয়ে সার উৎপাদন করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারী আবারো গ্যাস সংকট দেখা দেয় এবং এরপর থেকেই যমুনা সারকারখানায় ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ দেয়া হলে ২০ তারিখ থেকে সকল প্রস্তুতি শেষে ২৪ তারিখ থেকে উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু গ্যাসের পর্যপ্ত চাপ পাওয়া যাচ্ছিলোনা, ফলে দৈনিক আড়াই কোটি টাকার গ্যাস পুড়লেও কোন উৎপাদন হয়নি। তিতাস কর্তৃপক্ষ চলতি সপ্তাহে পুরোদমে গ্যাস সরাবরাহ দেওয়ার আশ^াস দিয়েছিলো, এরই প্রেক্ষিতে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করায় সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১০ মিনিটে যমুনা সারকারখানায় উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।
কারখানা সূত্র আরো জানায়, যমুনা সার কারখানায় সবচেয়ে কম গ্যাস লাগে এবং টন প্রতি ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে খরচ হয় ২০-২২ হাজার টাকা। আর দেশের বাইরে থেকে সার আমদানি করতে খরচ পড়ে টন প্রতি প্রায় এক লাখ টাকা। বর্তমানে যমুনা সারকারখানায় দৈনিক ১৩শ’ থেকে ১৪শ’ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা যায়, এই পরিমান সারের বাজার মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা। যমুনা সারকাখানায় প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন কোটি টাকার গ্যাসের প্রয়োজন হয়, নিয়মিত সার উৎপাদন করা গেলে প্রতিদিন ৩ কোটি টাকার গ্যাস বিলসহ অন্যান্য খরচ পরিশোধ করেও সরকারের দৈনিক ২ কোটি টাকা লাভ হয়। প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১শ’ কোটি টাকার গ্যাস বিল এবং আনুষঙ্গিক খরচ মিটিয়েও মাসে ৬০ কোটি টাকা লাভ হয় যমুনা সারকারখানায়। কিন্তু কারখানার প্রিজারভেশন ঠিক রাখতে কারখানা বন্ধ থাকলেও ব্রয়লার, পাওয়ার প্লান্টসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রাখতে প্রতিমাসে ৬ কোটি টাকার উপরে গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হয়, যা পুরোটাই কারখানার লোকসান।
যমুনা সার কারখানার বিভাগীয় প্রধান (অ্যামোনিয়া ও ইউটিলিটি) মোঃ ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানা জটিলতায় দীর্ঘদিন যমুনা সরকারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিলো। সবশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকারের নির্দেশে কারখানায় গ্যাস সরাবরাহ দিলেও পর্যাপ্ত চাপের অভাবে আমরা উৎপাদনে যেতে পারছিলাম না, সোমবার তিতাস পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করায় রাত ৩টা ১০ মিনিট থেকে পুরনায় উৎপাদন শুরু করা হয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!