সাহিত্য

কবিতা: ২৫শের সেই কালো রাত

আবদুল্লাহ আল দিপ্ত

নিভে যাওয়া শহরের বুক চিরে
যে রাত নেমেছিল নিঃশব্দে,
সে রাত কোনো সাধারণ রাত ছিল না-
সে ছিল ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়।

ঢাকার আকাশে তখন চাঁদ ছিল কি না
কেউ আজ আর মনে রাখে না,
কারণ সেই রাতে চাঁদের আলো ঢেকে দিয়েছিল
বারুদের গন্ধ, আগুনের লেলিহান শিখা,
আর মানুষের আর্তনাদের ছায়া।

হঠাৎ-
নিঃস্তব্ধতার বুক ভেঙে
গর্জে উঠেছিল লোহার দানবেরা,
ট্যাংকের চাকা মাড়িয়ে দিয়েছিল
স্বপ্ন, আশা, আর ভবিষ্যতের কচি পাতা।

রাত তখন আর রাত নেই,
রাত তখন রক্তের নদী-
যেখানে প্রতিটি ঢেউয়ে ভেসে আসে
নামহীন মানুষের শেষ চিৎকার।

বিশ^বিদ্যালয়ের হলগুলো,
যেখানে জ্বলত জ্ঞানের প্রদীপ,
সেই আলো নিভে গেল এক নিমিষে-
বইয়ের পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে
লেখা হলো মৃত্যুর নির্মম ইতিহাস।

মায়ের কোলে ঘুমন্ত শিশু
হঠাৎ চমকে উঠেছিল গুলির শব্দে,
বাবার কণ্ঠ থেমে গিয়েছিল মাঝপথে-
‘‘ভয় পেও না…”
শব্দটা আর শেষ হয়নি।

রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছিল
ভাঙা স্বপ্নের টুকরো,
আর প্রতিটি দেয়াল সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছিল
মানবতার নির্মম পরাজয়ের।

সেই রাতে
কেউ কাউকে ডাকতে পারেনি,
কারণ প্রতিটি শব্দ ছিল বিপদ,
প্রতিটি নিশ্বাস ছিল আতঙ্ক।

তবু-
অন্ধকারের মাঝেও জন্ম নিচ্ছিল এক আলো,
ভস্মস্তূপের নিচে জ্বলছিল
অদম্য প্রতিরোধের আগুন।

কারণ মানুষ মরে যেতে পারে,
কিন্তু তার স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা
কখনো মরে না।

২৫শে মার্চ-
একটি রাত,
যা শুধু হত্যা নয়,
একটি জাতির জেগে ওঠার সূচনা।

সেই কালো রাতের বুক চিরে
উঠে এসেছিল নতুন ভোরের প্রতিজ্ঞা,
রক্তের বিনিময়ে লেখা হয়েছিল
স্বাধীনতার প্রথম কবিতা।

আজও যখন রাত নামে,
নীরবতা নামে শহরের বুকে,
কোথাও যেন শোনা যায়-
সেই রাতের গুলির প্রতিধ্বনি,
সেই চিৎকার, সেই আহাজারি।

কিন্তু তার চেয়েও জোরে শোনা যায়-
একটি অমর কণ্ঠস্বর:
“আমরা হার মানিনি,
আমরা হার মানবো না।”

কারণ সেই কালো রাত
আমাদের ভাঙেনি-
আমাদের গড়ে তুলেছে,
একটি স্বাধীন জাতির অদম্য আত্মায়।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!