সাহিত্য

কবিতা: বক ও পুটিমাছ

নির্জন আহমেদ শান্ত

পুকুর পাড়ে বক বাবাজি ধ্যানে বসে রোজ,
ঠোঁটের ডগায় স্বপ্ন ঝোলে, পেটে কেবল ভোজ।
পুটিমাছের দল সাঁতরে কয়, “ও দাদু, শোনো কথা-
সারাদিনই দাঁড়িয়ে থাকো, পায়ে ধরে না ব্যথা?”

বক কয় হেসে, “ব্যথা কি আর, প্রেমে পড়েছি ভাই,
তোমাদের ওই ঝিকিমিকি রূপে মন ভুলে যাই।
ধরতে গেলেই পালাও তোমরা, ছলনা করো খুব,
আমার বুকের ভেতর তবু ওঠে তোমাদের ডুব।”

পুঁটি বলে, “ও বক মামা, প্রেমের কথা রাখো,
তোমার প্রেমে পড়লে পরে প্রাণটা কোথায় থাকে?
তুমি চাও পেটের শান্তি, আমরা চাই বাঁচতে,
তোমার ধ্যান আর আমাদের জান, একসাথে না নাচে।”

শুনে বকের চোখ ছলছল, ঠোঁটটা গেল কেঁপে,
“সত্যি বলতে কী জানো পুঁটি, একলা লাগে বটে।
সারাটা দিন দাঁড়িয়ে থাকি, কেউ তো কথা কয় না,
তোমরা এলে তবু জাগি, নইলে সবই শূন্য।”

পুঁটির দল মুচকি হাসে, লেজ নাড়িয়ে কয়,
“তবে এসো মামা, গল্প করি, ধরা-ছোঁয়ার নয়।
তুমি শোনাও আকাশ-কথা, আমরা শোনাই জল,
বন্ধু হয়ে থাকি চলো, বাদ দিই চোখের জল।”

সেই থেকে রোজ দুপুর বেলা পুকুর ঘাটে মেলা,
বক বলে তার মেঘের গল্প, পুঁটি শোনায় ঢেউয়ের খেলা।
ক্ষুধা পেলে বক অন্য দিকে চোখ ফেরায় লাজে,
পুঁটিরা কয়, “বন্ধু হলে পেটের কথাও বাজে?’’

হেসে ওঠে পুকুরপাড়, হাসে কলমিলতা,
শত্রু-মিত্র ভুলে গিয়ে জমে ওঠে মমতা।
বক আর পুঁটির কাব্য চলে চুপচাপ দুপুর জুড়ে,
আবেগ আছে, হাসিও আছে, জলের গন্ধে ঘুরে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!