আন্তর্জাতিক

আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদে ‘বিতর্কিত’ হিমন্তের ওপরই আস্থা রাখছে বিজেপি

হিমন্ত বিশ^শর্মাই যে আসামে আবার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন, তা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে আসামের বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-র পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। তার পরেই হিমন্ত যান লোকভবনে। রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন। জানা গেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন হিমন্ত। তার শপথগ্রহণে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ-র পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে তাকে বেছে নেয়ার জন্য মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হিমন্ত। এ-ও জানান, আগামী পাঁচ বছর আসামের উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতি দেবে তার সরকার।আসন বাড়িয়ে টানা তৃতীয়বার আসামে বিধানসভা ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ১২৬ আসনের আসাম বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৬টি আসন। বিজেপি ৮২টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। আর এনডিএ জিতেছে ১০২টি আসন। এবারের বিধানসভা ভোটে পুরনো সহযোগী আসাম গণপরিষদ, বড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের পাশাপাশি নিম্ন আসামের রাভা-হাজং স্বশাসিত পরিষদের ক্ষমতাসীন দল রাভা-হাজং যৌথ মঞ্চের সঙ্গে জোট গড়েছিল বিজেপি। ২০১৬ সালে আসামে ক্ষমতায় আসে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। সেবার সর্বানন্দ সনোয়ালকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। তার নেতৃত্বেই ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে জিতেছিল এনডিএ। তবে সর্বানন্দকে আর মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি। তার বদলে হিমন্তের কাঁধে আসামের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মোদী-শাহ। ২০২৬ সালে হিমন্তের নেতৃত্বে লড়ে আবার জেতে এনডিএ। কিন্তু এবার আর মুখ্যমন্ত্রী বদলের পথে হাঁটল না বিজেপি। হিমন্তকেই দ্বিতীয়বারের জন্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নেয়া হলো। প্রসঙ্গত, আসামের মুখ্যমন্ত্রী পদে আরোহণের পর রাজ্যটির মুসলিম জনগোষ্ঠীকে একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হিমন্ত। সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান না বলে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। তার এই বক্তব্যের পর ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!