Home অন্যান্য ‘ইস্টেশন পাঠাগার’ চায়ের বিনিময়ে বই পড়া

‘ইস্টেশন পাঠাগার’ চায়ের বিনিময়ে বই পড়া

by বাংলা টুডে ডেস্ক
Published: Last Updated on ৪৮ views


শুভ্র মেহেদী, জামালপুর
‘ইস্টেশন পাঠাগার’ জামালপুরের তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশনের অভিনব এই পাঠাগারে চা পান করলেই পড়া যাবে বই। রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীরাই মূলত এই পাঠাগারের মূল পাঠক। অভিনব এই ইস্টেশন পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগে খুশি যাত্রীরাও। আর উদ্যোক্তারা বলছেন, স্টেশনে অপেক্ষার মতো বিরক্তিকর সময়টা বই পড়ে কাটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে বই পড়ায় অভ্যস্ত করতেই তাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটা স্টেশনেই পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনা তাদের।


নিবিড় বিশ্বাস, দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামালপুর থেকে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি এলাকায় এসেছিলেন আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে। জামালপুর ফিরতে বন্ধুদের নিয়ে তারাকান্দি স্টেশনে অপেক্ষা ট্রেনের জন্য। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে ট্রেন প্রায় একঘন্টা লেট, তাই স্টেশন প্লাটফর্মের পাশেই চায়ের স্টলে গেলেন চা খেতে। দোকানী চায়ের সাথে তিন বন্ধুর হাতেই ধরিয়ে দিলেন বই। চায়ের সাথে বই ধরিয়ে দেওয়ায় তিন বন্ধুই অবাক, কিছু সময় পর চায়ের স্টলে থাকা বুক শেলফ আর ইস্টেশন পাঠাগারের সাইবোর্ড দেখে বুঝতে পারেন আসল ব্যাপারটা। শুধু নিবিড় বিশ্বাসই নয়, গত দেড় মাস ধরে তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতকারী প্রায় যাত্রীরাই এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন। ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা এখানে চা খেতে এসে বই পড়তে পেরে বেশ উচ্ছসিত। অযথা সময় নষ্ট না করে বিরক্তিকর সময়টাকে আনন্দময় করে জ্ঞানার্জনে বেশ সহায়ক এই চায়ের বিনিময়ে বই পড়ার ব্যবস্থা। পাঠকরাও বেশ মনোযোগ দিয়ে নিজের পছন্দের বই পড়তে পড়তে হারিয়ে যান কল্পনার রাজ্যে, রোমন্থন করেন অতীত স্মৃতি। ট্রেন যাত্রী তন্ময় চৌধুরী আর শুভ্র দেব জানান, চায়ের বিনিময়ে পড়া এই উদ্যোগটা সত্যিই চমৎকার। স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় থাকা সময়টা খুবই বিরক্তিকর হয়ে থাকে, কিন্তু এই ইস্টেশন পাঠাগারে বই পড়ে সময়টা দারুনভাবে কাটলো। ইস্টেশন পাঠাগারের এই উদ্যোগটা শুধুমাত্র একটা স্টেশন কেন্দ্রিক না রেখে দেশের সবস্টেশনগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া গেলে অনেক ভালো হবে।


চা স্টলে ইস্টেশন পাঠাগার স্থাপনের পর থেকে চা খেতে এসে যাত্রীদের বই পড়ে আনন্দ প্রকাশের বিষয়টি জানিয়ে চা স্টলের মালিক মিলন মিয়া বলেন, শুরুতে আসাদ নামে ছেলেটা আমার কাছে এসে দোকানে বই রাখার কথা বললে আমি তার প্রস্তাবে রাজি হই। এখন সময় যতোই যাচ্ছে চায়ের ক্রেতা এবং পাঠক দুটোই বাড়তে থাকায় আমি নিজেও অনেক খুশি।
মিলন স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও ইস্টেশন পাঠাগারের উদ্যোক্তা আতিফ আসাদ বলেন, পাঠাগারের শুরুটা বাড়ির বারান্দা থেকে হলেও সবার মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতেই ইস্টেশন পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগ। এতে একদিকে যাত্রীরা যেমন চায়ের চুমুকের সাথে বই পড়তে পারবে, তেমনি চা দোকানিও উৎসাহিত হবে।
রেডিও ১৯’র অনুষ্ঠান পরিচালক ও ইস্টেশন পাঠাগারের উদ্যোক্তা মো: আসাদুজ্জামান জানান, তারাকান্দি রেলওয়ে স্টেশন থেকে আমাদের ইস্টেশন পাঠাগারের যাত্রা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে দেশের সকল স্টেশনে এই পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা স্বপ্ন দেখছি, সামনের দিনগুলিতে ডানা মেলতে চাই বাস্তবের আকাশে।


উষ্ণ চায়ের চুমুকে চুমুকে আনন্দ নিয়ে বই পড়ার নির্মল বিনোদনের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়–ক দেশের প্রতিটি প্রান্তে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

আরো পড়ুন

সম্পাদক: শুভ্র মেহেদী

মোবাইল: ০১৯৮৫৮২৭৮৩০
ই-মেইল: jamalpur.banglatoday.2022@gmail.com

মিডিয়া ক্যাম্পাস, পৌরসুপার মার্কেট (২য় তলা), রানীগঞ্জ বাজার, তমালতলা, জামালপুর।

Developed by Media Text Communications