জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার আহ্বান
জামালপুরে উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জামালপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি শামিমা খান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জ¦ালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ৪.৬ শতাংশ, এটি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। “জীবাশ্ম জ্বালানিকে না বলুন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। টেকশই ভবিষ্যতের আহ্বানে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রঙ্গনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) জামালপুর এর উদ্যোগে উক্ত মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো: শওকত আলম মীর বলেন, বাংলাদশেে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তর সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস উদ্যাপন তাৎপর্যপূর্ণ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রাসঙ্গিক নীতি প্রণয়নের চাহিদা জোরদার করার পাশাপাশি এ বিষয়ে সুশাসন নিশ্চিতে সাধারণ জনগনের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে।

জামালপুর সনাকের সভাপতি শামিমা খান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, সহযোগী অধ্যাপক রেজাউল করিম, সনাক সহসভাপতি এ কে এম আশরাফুজ্জামান, ইয়েস দলনেতা উমর ফারুকসহ প্রমূখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা জানান যে, ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে আসা প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের ৯৬.৭ শতাংশই ছিল জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পে। বিপরীতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। বক্তারা অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতে বর্তমানে নীতি করায়ত্ত, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতির মতো সুশাসনের ঘাটতি প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে সারা দেশের পাশাপাশি জামালপুরের সাধারণ জনগনের সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইয়েস দলনেতা উমর ফারুক টিআইবি কর্তৃক প্রস্তাবিত ০৯ দফা সুপারিশ সম্বলিত একটি ধারণপত্র পাঠ করেন। সুপারিশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: রাজনৈতিক দলসমূহকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বন্ধ করা ও জ্বালানি মিশ্রণে নবায়ণযোগ্য জ¦ালানির পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্গীকার; ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো‘ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি স্বাধীন তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা; জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫‘ সংশোধন করা; স্রেডা (SREDA)-কে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে মর্যাদা প্রদান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত জ্বালানি খাতের সকল প্রকল্প প্রস্তাব এবং চুক্তির নথি প্রকাশ করা; বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুশাসন ঘাটতি ও দুর্নীতি ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রকল্প অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, চুক্তির শর্ত নির্ধারণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান এবং বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ইত্যাদি।
মানববন্ধন শেষে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আমানুল্লাহ আল মারুফ। উক্ত কর্মসূচিতে জামালপুর সনাকের ইয়েস ও এসিজি সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।




