কৃষি ও প্রকৃতিসারাদেশ
শসা বদলে দিয়েছে কৃষকের ভাগ্য

খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার চাষ করা হয়েছে। কম খরচ ও স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় শসা চাষে ঝুঁকছেন এ উপজেলার কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাকযোগে সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো।
কৃষকেরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। শসা চাষে তুলনামূলক কম খরচ এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকায় এ বছর আগাম শসা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার আবাদ। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল। কোথাও থরে থরে ঝুলছে শসা। কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। শসাভর্তি বস্তা অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাজারে। এবার কৃষকেরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।
জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, শসার বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এবার শসার ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলন ও দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে শসা চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।
বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে শসা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘার শসা বিক্রি করা যায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। তবে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর প্রকৃত লাভের পরিমাণ নির্ভর করে। এবার দাম ভালো থাকায় আমরা খুশি। আগামীতে আরও জমিতে শসা চাষ করার ইচ্ছা আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর মাদারগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ হয়েছে। চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসার আবাদ করছেন। এ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য উপযোগী। এ কারণে প্রতিবছরই শসার আবাদ বাড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে।




