রাশিয়ার ড্রোন-ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় কিয়েভে ৪ জন নিহত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও ১৪ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো, একটি গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিটসকো জানান, রাজধানী ও উত্তরের একটি শহরে রাতভর হামলায় তিনজন নিহত হন। পরে গতকাল বুধবার কিয়েভের একটি গুদামে হামলায় আরও একজন নিহত হন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতের হামলায় রাশিয়া ১৮৮টি ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। এর মধ্যে ১৫৫টি ড্রোন ও ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিইকে জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানানো সম্ভব না হলেও কর্মীরা প্রায় ৮ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করেছেন। হামলার পর ধোঁয়ায় কিয়েভের আকাশ ঢেকে যায়। ঘন ধোঁয়ার কারণে জরুরি সেবাদাতা সংস্থাগুলো বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। শহরের একটি পশ্চিমা দেশের দূতাবাসের কাছেও হামলার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ক্লিসটকো। এদিকে একটি রুশ ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় ঢুকে বিস্ফোরিত হয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাশিয়ার হামলার আশঙ্কায় ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ড ও রোমানিয়াও যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় পোল্যান্ডের লুবলিন ও ঝেশোভ বিমানবন্দরের কার্যক্রম। রাশিয়া হামলার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেছে, তারা কিয়েভে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত একটি ডেটা সেন্টার, কিয়েভ অঞ্চলের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ওদেসা ও ইজমাইলের শিল্প ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ব্রিয়ানস্কে একজন নিহত এবং সামারা অঞ্চলে কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স




