সারাদেশ

আব্বুর সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ক ছিলো, এটা নিয়ে ঝগড়া করে আব্বু আম্মুকে মেরে ফেলেছে

জামালপুরে গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জামালপুরের একটি ভাড়াবাসা থেকে ইসরাত জাহান নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকালে জামালপুর পৌর শহরের পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকার একটি ভবনের পাঁচতলার এক ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে।
নিহত ইসরাত জাহান(৩৪) জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গাড়িয়াডাঙ্গা এলাকার কাওসার আহমেদ শাওনের স্ত্রী। তাদের দশ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ছয় বছরের ছেলে রয়েছে।
জানা যায়, ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পত্তি প্রায় এক মাস ধরে পাঁচরাস্তা মোড়ের কলাবাগান এলাকায় বাবুল মিয়ার ছয়তলা বাসার পাঁচ তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। কাওসার আহমেদ শাওন শহরের বাগেরহাটা বটতলা এলাকায় মুদি দোকান করেন। ইসরাত জাহান ও কাওসার আহমেদ শাওন দম্পত্তির মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কলহ ছিলো। গতকাল শনিবার রাতে কাওসার আহমেদ শাওন বাসায় আসার পর ইসরাত জাহানের সাথে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাওসার তার দুই সন্তানকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে ইসরাতকে মারধর করে। পরে রবিবার সকালে কাওসার তার দুই সন্তানকে আটকে রাখা কক্ষের দরজা খুলে দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বের হওয়ায় সময় ফ্ল্যাটের সদর দরজায় বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় কাওসার আহমেদ শাওন। পরে ওই দুই শিশু সন্তান তার মাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ফ্ল্যাটের পাঁচ তলার জানালা দিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। স্থানীয়রা চিৎকার শুনে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানালে তারা গিয়ে দেখে ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার-৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার তালা ভেঙে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে তাদের মা ইসরাত জাহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাওসার আহমেদ শাওন পলাতক রয়েছে।
নিহতের মেয়ে সামিয়া আক্তার সিনহা জানায়, আমার আব্বুর সাথে অন্য মেয়ের সম্পর্ক ছিলো। এটা নিয়ে আম্মু আব্বুর সাথে ঝগড়া করে, আম্মুকে অনেক মারধর করে মেরে ফেলে। পরে আব্বু আমাদের অন্য ঘরে আটকে রাখে, আমরা অনেক ডাকাডাকি করলেও খুলে দেয়নি, পরে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে আব্বু দরজা খুলে আমাদের খাবার দিয়ে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায়, আমার আম্মুর ফোনও নিয়ে যায়। পরে আম্মুর ঘরে গিয়ে দেখি আম্মু বিছানায় শুয়ে আছে, অনেক ডাকাডাকি করার পরও আম্মু উঠেনি, তখন আমরা জানালা দিয়ে চিৎকার করি।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটি একটি হত্যাকান্ড। শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!