নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারাদেশে মাটির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাটির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আগামী চার মাসের মধ্যে দেশের সব মাটির পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এরপর মাটির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৯এন২) ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন সিড প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উপস্থিত ছিলেন। নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্য উৎপাদনে মাটির গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাটির যথাযথ পরিচর্যা বা চিকিৎসা হয়নি। ফলে মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি দেখা দিয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাটির পরীক্ষা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি আগামী চার মাসের মধ্যে সব মাটির পরীক্ষার প্রতিবেদন আমাদের কাছে এসে যাবে। এরপর আমরা মাটির উন্নয়নে হাত দেবো। নিরাপদ খাদ্যের সঙ্গে রোগব্যাধির সম্পর্কের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়েই কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তবে ফসলের ধরন ও উৎপাদনকাল অনুযায়ী কীটনাশকের ব্যবহারেও পার্থক্য রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ফসলের জন্য এক ধরনের এবং স্বল্পমেয়াদি ফসলের জন্য অন্য ধরনের কীটনাশক প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে যথাযথ নীতিমালা ছিল না। কীটনাশক আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রির ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত নীতিমালা না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এ ধরনের কোনো নীতিমালা ছিল না। এই কীটনাশকগুলো ব্যবহারের নিয়ম-নীতির প্রশ্নেও কোনো নীতিমালা ছিল না। আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের পরীক্ষা করা উচিত বা করতে বাধ্য এ ধরনের নীতিমালাও ছিল না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ওই কমিটি একটি সুপারিশ বা প্রস্তাবনা দেবে। কীটনাশকের আমদানি, প্রয়োগ ও বিক্রয় এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবনা পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর বৃহৎ পরিসরে আরেকটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং অনুমোদনের পর সরকারি পর্যায়ে তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। কাজের সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি গঠনের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। গত চার মাসে কীটনাশক-সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রায় এক মাস আগে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার আশা রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। মানুষ এই দেশ, এ দেশের মানুষের জন্য। মানুষই যদি বাঁচতে না পারে, তবে দেশ দেশে থাকবে কে? এ ব্যাপারে সরকার প্রচণ্ড সিরিয়াস। মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বাড়ানো, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধে জোর দিচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ও ঐতিহ্যের অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একই প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও পদ্মা-মেঘনার ইলিশের স্বাদ আলাদা। বাংলাদেশের পলিমাটির কারণেই ইলিশের বিশেষ স্বাদ তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন বাড়াতে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক ও শক্তিশালী করা জরুরি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের বিচরণ করা প্রধান নদীগুলোতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিং হয়নি। সরকার এরই মধ্যে এসব নদী খননের প্রস্তাব দিয়েছে। নদী খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বাড়ানো গেলে ইলিশের বিচরণ ও উৎপাদন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ইলিশ স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে। এ কারণেই ইলিশের স্বাদেও বিশেষত্ব আসে। তাই ইলিশের আবাসস্থল নদীগুলোতে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের বিষয়ে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় নির্দিষ্ট মেয়াদে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। লাখ লাখ জেলেকে এ সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে। তবে শুধু খাদ্য সহায়তা দিয়ে জেলেদের জীবনযাত্রা টেকসই করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, যেসব জেলের একমাত্র উপার্জনের উৎস মাছ ধরা, নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলেদের এলাকায় পশুপালন, উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। জাটকা নিধন বন্ধে এ বছর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আগের তুলনায় জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বছর জাটকা ধরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আগামী মৌসুমগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইলিশের উৎপাদন ও বিচরণে দূষণকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ অত্যন্ত সংবেদনশীল মাছ। নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্র থেকে মিঠা পানির সংস্পর্শে আসে। নদীর পানিতে দূষণ বেড়ে গেলে ইলিশ ওই এলাকা থেকে সরে যেতে থাকে। তাই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণও জরুরি। কারেন্ট জাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কারেন্ট জাল আমদানি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে কয়েকটি কারেন্ট জাল তৈরির কারখানা চালু থাকার খবর পাওয়ার পর সেগুলোও বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধেও প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ধ্বংস ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, গতবারের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে নদী ও খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। ইলিশের স্বাদ ও উৎপাদন ধরে রাখতে দেশীয় নদীগুলোর পানিপ্রবাহ, প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মৎস্যমন্ত্রী। ভ্যাকসিন উৎপাদন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে: এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা (এইচ৯এন২) ও গোটপক্সের ভ্যাকসিন উৎপাদনে সরকার নিজস্ব ল্যাব বা কারখানার মাধ্যমে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য। তাই মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় লাগে। ভ্যাকসিন হস্তান্তরে বিলম্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন ও চূড়ান্ত পর্যায়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন ছিল। এ ছাড়া প্রাণীর মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ায় ভ্যাকসিন নিয়মিত আপগ্রেড করার প্রয়োজন হয়। এসব কারণেই সময় লেগেছে। মন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন উৎপাদন কার্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গ পর্যায়ে নিতে অর্থায়ন প্রয়োজন। সরকার একাই এ অর্থায়ন করবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত তার জানা নেই। তবে এ ধরনের সংবেদনশীল পণ্যের উৎপাদন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের পর্যাপ্ত জমি ও ল্যাবরেটরি রয়েছে। আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবও রয়েছে। প্রয়োজনে অন্য দেশের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার-সরকার সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তবে ভ্যাকসিনের উৎপাদন নিজস্ব সরকারি ল্যাব বা কারখানায় করার পরিকল্পনাই এখন পর্যন্ত রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এইচ৫এন১ ও এইচ৯এন২-দুই সাবটাইপই বিদ্যমান। এইচ৯এন২-এর ক্ষেত্রে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্তের হার ২৩ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। আক্রান্ত ডিমপাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন ১৪ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে রোগটির প্রভাব শুধু মুরগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; খামারির আয়, খাদ্যনিরাপত্তা, ডিম ও মাংসের সরবরাহ এবং দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে ভ্যাকসিনটি কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে ছাগল খামারিদের রোগজনিত ক্ষতি কমবে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গবেষণাকে শক্তিশালী করা, দেশের মাটিতে উদ্ভাবন করা এবং সেই উদ্ভাবনের সুফল সরাসরি খামারির কাছে পৌঁছে দেওয়া। কৃষক ও খামারিকে প্রযুক্তি, প্রণোদনা, বাজার, অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভ্যাকসিন সিড হস্তান্তরও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের গবেষণাভিত্তিক স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে। ভ্যাকসিন দুটি দ্রুততম সময়ে মানসম্মতভাবে উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিএলআরআই, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে এইচ৯এন২ ভ্যাকসিনের চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন আমদানি করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরুরি প্রয়োজনে ১৯ কোটি ডোজ এইচ৯এন২ ভ্যাকসিন এবং ৩১ কোটি ডোজ মিশ্র ভ্যাকসিন আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এসব ভ্যাকসিনের বাজারমূল্য ৯০০ কোটি টাকার বেশি। দেশে বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন উৎপাদন করা সম্ভব হলে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে খামারিরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে স্থানীয়ভাবে উপযোগী ভ্যাকসিন পাবেন। বিএলআরআই উদ্ভাবিত এইচ৯এন২ ভ্যাকসিনটি বাংলাদেশের স্থানীয় স্ট্রেইন থেকে তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশের স্থানীয় ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এটি অধিক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনটি উচ্চমাত্রায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। বুস্টার ডোজ প্রয়োগ করলে ৩১ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিরোধী মাত্রার অ্যান্টিবডি বজায় রাখতে সক্ষম বলেও গবেষণায় পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গোটপক্স ভ্যাকসিনের সিড হস্তান্তরকেও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছাগল পালন, বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র খামারি ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। গোটপক্স একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগে আক্রান্তের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এবং মৃত্যুহার ১০ থেকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অল্পবয়সী ছাগলের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার আরও বেশি হতে পারে। বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবিত গোটপক্স ভ্যাকসিনটি স্থানীয় স্ট্রেইন ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এটি লাইভ অ্যাটেন্যুয়েটেড ভ্যাকসিন এবং দুই মাস বয়সী ছাগলের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায়। গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ভ্যাকসিনটি উচ্চমাত্রায় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করে এবং বুস্টার ডোজ ছাড়াই এক বছর পর্যন্ত গোটপক্স সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহ জামান খান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, গবেষক ড. আব্দুস সামাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




