আন্তর্জাতিক

কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩৭৭ জনের মৃত্যু

ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ কঙ্গোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত সোমবার রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু এবং দক্ষিণ কিভু প্রদেশে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চতুর্থ আরেকটি প্রদেশেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সংস্থাটির বরাত দিয়ে কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, ভাইরাসজনিত এই রক্তক্ষরণজনিত জ্বর ওত-উয়েলে প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদেশটির সঙ্গে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত রয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে একজন সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে এএফপিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ এখন সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করতে এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওত-উয়েলেতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ায় কঙ্গোর পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। সংঘাত-বিধ্বস্ত ইতুরি প্রদেশটি দেশের সর্বশেষ এবং ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকা। গত মে মাস থেকে সেখানে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্বজনদের সংস্পর্শে আসছে। ফলে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ করছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাসের কারণে সাহায্যকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপদে দাফনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ অনেকেই মৃতদের দেহ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকছেন না। কঙ্গোতে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রায়ই কয়েক দিন ধরে চলে। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা মৃত ব্যক্তির দেহ স্পর্শ করেন। ইতুরি প্রদেশের রুয়ামপারার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রায়ই পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই কেন্দ্রগুলো বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। গত মাসে এক বিক্ষুব্ধ জনতা এখানকার তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এখনও কিছু কঙ্গোবাসী সাহায্যকর্মীদের বিশ্বাস করেন না। তিনি আরও বলেন, তাদের আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে সুরক্ষাসামগ্রী, ওষুধ, দ্রুত পরীক্ষার কিট এবং মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সরকার রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংক্রমণের বিস্তার রোধে সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!