রাজনীতি

সংসদে মন্ত্রীদের উপস্থিতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার

জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং অধিবেশনের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন গতকাল মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে স্পিকার সবসময় সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আলোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না। এতে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদের শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অধিবেশন চলাকালে সদস্যদের ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়, যা সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণে বাধা সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, একদিকে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চললেও অন্যদিকে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি, কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সংসদই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। স্পিকার সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অধিবেশন চলাকালে ছোট ছোট গ্রুপে আলোচনা বা আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলতে হবে। পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!