সারাদেশ

রাজশাহী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২৪ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জের কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। রোগীর স্বজনের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎকরা দাবি করেন, যে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তার চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। ওই রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এ জন্য আইসিইউতে সিরিয়াল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অপেক্ষমান আরও রোগী থাকায় বেড পাওয়া যায়নি। যখন ওই রোগী মারা যান, তখন কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক আরও দুজন মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন। সোমবার রাতে হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুলিয়ারা বেগম (৫০) নামে ওই রোগী মারা যান। এরপর তার দুই ছেলে সেনাসদস্য সোহেল আলী (২৯) ও বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী জয় আলী (২৪) অভিযোগ তোলেন, অবহেলার কারণে তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তারা মারমুখী আচরণ করেছেন বলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ। এ সময় ওই সেনাসদস্যকেও মারধর করা হয়। পরে দুই ভাইকে পুলিশে তুলে দেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করে। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জয়কে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আর সেনা আইনে বিচারের জন্য সোহেলকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেনা হেফাজত থেকেই গত মঙ্গলবার মায়ের জানাজায় অংশ নেন সোহেল। আর জয় আলী আদালত থেকে জামিন নিয়ে গিয়ে জানাজায় অংশ নেন। তাদের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামে। সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওয়ার্ডে মিড লেভেলের চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবিতে তারা কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেসব দাবির ব্যাপারে ইতিবাচক। তাই তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস। তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। তাদের জন্য মাত্র ২৬২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক থাকেন। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাই তাদের সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!