৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল রাশিয়া-ইউক্রেন

ভ্লাদিমির পুতিন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ৩২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, গতকাল শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে এই বিরতি শুরু হয়ে আজ রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়ে দুই দেশই ইস্টার উদযাপন করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনও এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন একই পদক্ষেপ নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোউসভ সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ-কে নির্ধারিত সময়ে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব দিতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলেও জানানো হয়। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন আগেই এমন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। তিনি টেলিগ্রামে লেখেন, ‘আমরাও ইস্টারের সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব।’ তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার প্রয়োজন এবং ইস্টারের পর রাশিয়া যেন নতুন করে হামলা শুরু না করে সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। তবে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর জানান, রুশ হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। তার দাবি, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০ বার আঘাত হানা হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধ অবসানে বড় ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ স্থবির হয়ে আছে এবং ওয়াশিংটন-এর মনোযোগ ক্রমেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাচ্ছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে আগাম কোনো আলোচনা হয়নি এবং এটি ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় তাৎক্ষণিক অগ্রগতির ইঙ্গিতও নয়। তবে মানবিক সহায়তার চ্যানেলগুলো এখনও চালু রয়েছে। আল জাজিরা-এর মস্কোভিত্তিক সাংবাদিক ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, ‘সম্প্রতি ৪১ জন রুশ সেনার মরদেহের বিনিময়ে মস্কো এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার দেহাবশেষ কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করেছে।’ তিনি আরও জানান, চলতি বছরে ৫০০ জনের বেশি রুশ সেনা এবং ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তার মতে, জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বন্ধসহ অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য বারবার চাপ দিলেও মস্কো সেসব প্রস্তাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে সময় আরও কঠিন হতে পারে। কিয়েভকে একদিকে রাশিয়ার হামলা মোকাবেলা করতে হবে, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের চাপও সামলাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের জন্য সময়টা খুব কঠিন হবে।’




