সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু রাখার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে বিমানের ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসীরা। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিমান অফিস অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল রোববার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও নর্থ ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলরস ফোরামের নেতৃবৃন্দ। এতে ১০ জন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমান কর্তৃক ম্যানচেস্টারে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িক স্থগিত প্রসঙ্গে যে বিবৃতি দিয়েছে-তারও প্রতিবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম জুনেদ আহমদ বলেন, ‘বিমানের এমন বিবৃতিতে আমরা বিস্মিত, মর্মাহত ক্ষুব্ধও।’ সিলেট-ম্যানচেস্টার পথে লোকসান হচ্ছে মর্মে বিমান কর্তৃপক্ষ যে বক্তব্য দিয়েছে- সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন রেখে জুনেদ আহমদ বলেন, ‘যে পথে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ পার্সেন্ট ব্যবসা করে সেই পথটিতে কীভাবে লোকসান হয়? বেশিরভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে কেনেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পায়তাঁরা করছে। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি অলাভজনক নয়। বরং যাত্রী এত বেশি যে, গেলো কয়েক মাস ধরে ওই ফ্লাইটের টিকিটই মিলছিল না। লাখ লাখ পাউন্ডে ব্যবসা করা বিমান কর্তৃপক্ষ সব সময় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে, এখনও চালাচ্ছে। অথচ ইতালি, জাপান, কুয়েত, শারজাহ রুটে যাত্রী কেমন পায় সেটি আপনারা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান এই রুটে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টারে প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ও ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী বহন করেছে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাত্রী যাওয়া-আসা করেছেন। এ সময়ে বিমানের সিট ছিল ৪৫ হাজার। এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাচ্ছে, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনই অলাভজনক ও যাত্রী সংকটে ছিল না। সুতরাং বিমানের যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০২০ সালে যখন ফ্লাইট চালু হয়; তখন বিমানের প্রচারণার অভাবে বিজনেস ক্লাসে যাত্রী কম ছিল। কিন্তু গত হজ মৌসুমের পরবর্তী সময় থেকে বিজনেস ক্লাসে কোনও সিট খালি থাকেনি। সিলেট থেকে প্রতি সপ্তাহে গত রোববার ও মঙ্গলবার সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার রুটে চলাচল করে। যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডে বসবাসরত সাত-আট লাখ প্রবাসীর যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিমান কর্তৃপক্ষ রুটটি চালু করেছিল। এখন ওই অঞ্চলের প্রবাসীরা ১২-১৩ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট এসে পৌঁছাতে পারেন। যদি রুটটি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রবাসীদের আসতে সময় লাগবে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা। কারণ সড়কপথে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টার জার্নি করে হিথ্রো হয়ে ঢাকা কিংবা সিলেট আসতে হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়বেন সব বয়সী মানুষ। এস কারণে অনেকে দেশে আসতে ভয় পান।’ পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনীতিক নজরুল ইসলাম বাসন, ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক মিজানুর রহমান ও ওল্ডহাম বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি সিলেটের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওয়েছ খছরু, ওল্ডহামের ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামাল রব, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হক, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী আখি রহমান। এ প্রসঙ্গে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বলেন, ‘২২ জানুয়ারি বিমানের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটিই আমার বক্তব্য। এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’ আগামী মার্চ থেকে ম্যানচেস্টার-সিলেট রুটের নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ সিদ্ধান্ত ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও পরে এক মাস পিছিয়ে দেয় বিমানের পরিচালনা পর্ষদ।




