জাতীয়প্রধান খবর

সমুদ্র আমাদের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্র অঞ্চলকে কেবল একটি ভৌগোলিক সীমা নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সংযোগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় কৌশলগত সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে এই সমুদ্র সীমানা। বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থা (আইএইচও) এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘সামুদ্রিক তথ্য আদান-প্রদানের ধারণায় আমূল পরিবর্তন’, যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র-সংক্রান্ত তথ্যের আধুনিক, নিরাপদ ও নির্ভুল আদান-প্রদান শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিতকরণ, সমুদ্রতলের সঠিক মানচিত্র প্রণয়ন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের পরিকল্পিত উন্নয়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দেশের সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তর, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে এবং সুনীল অর্থনীতি হয়ে উঠতে পারে দেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!