আন্তর্জাতিক

যে কারণে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। গতকাল শনিবার দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এই জলপথের ওপর পুনরায় ‘কঠোর ব্যবস্থাপনা’ ও সামরিক নিয়ন্ত্রণারোপ করছে। এর আগে প্রণালিটি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলেও তেহরান দ্রুত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করল। খবর বিবিসির।
প্রণালি পুনরায় বন্ধের মূল কারণ : ইরানের দাবি ছিল, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হওয়ার আগে এই অবরোধ বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থানের প্রতিবাদে ইরান পুনরায় প্রণালিটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। আইআরজিসি মার্কিন কার্যক্রমকে ‘সামুদ্রিক জলদস্যুতা’ বা ডাকাতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরানি বন্দরে আসা-যাওয়ার পথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এই অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবহারের অধিকার সীমিত করেছে। এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের জন্য ইরানের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হবে। এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়েও বড় ধরনের মতভেদ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক সম্পদ হস্তান্তরের কোনো প্রশ্নই আসে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!