আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বছরে বাড়ল ৭০ শতাংশের বেশি

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা জোরদার, সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত রাখার ইউক্রেনের ঘোষণার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হুহু করে বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি বলছে, শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়, যা চলতি বছরের মে মাসের পর সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমে দিন শেষে প্রতি ব্যারেল ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।চলতি সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০ শতাংশের বেশি এবং ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৩ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, এ মূল্যবৃদ্ধি দেশটির জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের আঘাতের কারণে চলতি বছর ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এদিকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ দ্রুত ভেঙে পড়েছে। কথিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের আঘাতের কারণে চলতি বছর ডিজেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩৩ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, এ দামবৃদ্ধি দেশটির জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছে বাণিজ্যিক মজুদের উল্লেখযোগ্য পতন। জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন ইসাইয়াসের কারণে উপসাগরীয় উপকূলে উৎপাদন বন্ধ থাকায় ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক তেলের মজুদ ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে। এতে বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির বাহিনী। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির ইয়ানবু তেল রপ্তানি টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। এ ছাড়া রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা চলতি সপ্তাহে একাধিকবার সৌদি আরবে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ধাহরানে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!