আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ইরানি জাহাজ ও নাবিকদের ভাগ্যে কী আছে

ওমান সাগর থেকে ইরানের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি তুসকাতে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী। গত রোববার জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

এখন জাহাজটির কী হবে?
নৌ-বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তুসকাকে প্রথমে কোনও নোঙরস্থান বা বন্দরে নিয়ে গিয়ে তল্লাশি করা হবে। তল্লাশি শেষে এটি ‘প্রাইজ’ হিসেবে মার্কিন সরকারের সম্পত্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মত দেন তারা।লোয়ি ইনস্টিটিউটের ননরেসিডেন্ট ফেলো এবং সাবেক রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর কর্মকর্তা জেনিফার পার্কার সিএনএনকে বলেন, ‘নৌযুদ্ধের আইনে এমন পরিস্থিতিতে কোনও জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সেটি জব্দ করা যায়।’

মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুসকা চীনের ঝুহাই শহর ও ইরানের বিভিন্ন বন্দরের মধ্যে যাতায়াত করছিল। ২০১৮ সাল থেকে এটি নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। মেরিনট্রাফিক জানিয়েছে, তুসকা জাহাজটি জব্দ করার সময় সেটি মালামাল বোঝাই অবস্থায় ছিল। তবে এই জাহাজে ঠিক কোন পণ্য রয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। পার্কার বলেন, ‘ওয়াশিংটন যদি দীর্ঘমেয়াদে এটি নিজেদের কাছে রাখতে চায়, তাহলে প্রাইজ কোর্টের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে হবে। সে জন্য আদালত গঠন করতে হবে। এটিকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।’ মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন ও হাওয়াইভিত্তিক বিশ্লেষক কার্ল শুস্টার বলেন, সশস্ত্র সংঘাত চলাকালে শত্রুপক্ষের কাছ থেকে জব্দ করা যোদ্ধা বা সামগ্রীর মতোই এটিকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

নাবিকদের কী হবে?
তুসকার ক্রুদের ভবিষ্যৎ তাদের জাতীয়তার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান পার্কার। তিনি বলেন, ‘যদি তারা ভারতীয় বা ফিলিপিনো নাবিক হন, তাহলে সম্ভবত তাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’ তবে ক্রুরা যদি ইরানি হন, তাহলে তাদের আটক করা হতে পারে। আর যদি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা জাহাজে থাকেন, তাহলে তাদের যুদ্ধবন্দি হিসেবে রাখা হতে পারে। পার্কার আরও বলেন, যদি তুসকা ইরানের জন্য কোনও অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম বহন করে থাকে, তাহলে ক্রুদের আটকের সম্ভাবনাই বেশি।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button
error: Content is protected !!