মার্কিন প্রেসিডেন্ট ধন্যবাদ জানালেন পুতিন-জিনপিংকে

ইরান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘নিরপেক্ষ’ ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তারা এই বিষয়টিকে অনেক সহজ করে দিয়েছেন। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই সংঘাত থেকে দূরে থাকায় এই দুই নেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ট্রাম্প বলেন, আমি চীন এবং প্রেসিডেন্ট শিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিলেন। আমি তার এ ভূমিকার প্রশংসা করি। তিনি বলেন, আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ তিনিও ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা চাইলে আমাদের জন্য অনেক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারতেন। রয়টার্স জানিয়েছে, মস্কো এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন হামলার পর এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছিল রাশিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এ আচরণকে একটি দেশের সার্বভৌমত্বের নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল বেইজিং। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সামরিক কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন কিছু পণ্য তেহরানকে সরকরাহ করেছে বেইজিং। এছাড়া ইরানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের তেলের অন্যতম ক্রেতা ছিল দেশটি। ট্রাম্প বলেন, শি সংঘাত নিরসনে সহায়ক ভূমিকা চালন করেছেন। তিনি ইরানে কোনো ধরনের ভারী অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাননি। তিনি বলেন, চীন চাইলে একটি তেলবাহী জাহাজের দুই পাশে ছয়টি করে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে পাঠিয়ে দিতে পারত। কিন্তু তারা এ ধরনের কিছু করেনি। চীনের প্রেসিডেন্ট আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি শান্তি স্থাপনে ভূমিকা রেখেছেন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, এ বিষয়ে চীনের অবস্থান সুসংগঠিত ছিল। তারা যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। সূত্র: রয়টার্স




